বৃষ্টি নামে ঝুম
শিবুকান্তি দাশ
কালো মেঘে আকাশ থেকে বৃষ্টি নামে ঝুম
টিনের চালে নূপুর বাজে রুমজুম রুমজুম
ভেলা ভাসাই দুষ্ট ছেলে মাছ ধরতে যায়
উঠোন জুড়ে জল থইথই হাঁসের ছানা গায়।
খাল ডুবেছে,বিল ডুবেছে জলের মেলা সব
বাসা ভেঙ্গে পাখিরা ঐ করছে কলরব
ইশকুল ঘর ডুবে গেছে হাটবাজারও নেই
বাজার সদাই বন্ধ কেনা শুকনা খাবারই।
দুধের শিশু কান্না করে মায়ের আহাজারি
জলের তোড়ে রাস্তা ভেঙ্গে বন্ধ সকল গাড়ি
কামলা যারা পায় যে কাজ উপোসে দিন যায়
বৃষ্টি তুমি আর ঝরো না করছি বারণ ভাই।
শিবুকান্তি দাশ
স্মৃতির গ্রাম
ভরদুপুরে বেরিয়ে গেলাম গ্রামের ভেতর
তপ্ত রোদে গা পুড়ছে থরথরথর
তবু আমার লাগছে ভালো পথের ধুলো
আমায় দেখে কাঁপছে গাছের পাতাগুলো।
আমায় যেন বলছে খোকা কখন এলে?
একটু জিরাও বাতাস করি পাখনা মেলে
একটি পাখি উঠল ডেকে খুব চেনা সুর
গাঁ থেকে আজ থাকি আমি দূর বহুদূর।
হাঁটছি আমি একা একা দখিন বিলে
ডাহুক পাখির একটি ছানা ভাসছে ঝিলে
ঝিলের পাড়ে বটপাকুরটা তেমনি আছে
চানখালি খাল ঐ দেখা যায় খুবই কাছে।
খালের পাড়ে কামার পাড়া দেখছি নাতো?
মাঠ থেকে এক বুড়ো এসে বলল ও! ও!
চিনেছি তো তুমি কত বড় হলে-
হারান চাচা দুখের যত কথা বলে।
সেই গ্রাম আর নেই রে বাবা মরুভূমি
গাছপালা নেই কমছে জমি দেখছো তুমি
নাও চলে না খাল মরেছে মাছও উধাও
নতুন যুগের নায়ক তুমি পারলে শুধাও।
