রাশিয়ার দূর প্রাচ্যের কামচাটকা উপকূলে ৮.৮ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর পরপরই প্রায় চার মিটার উচ্চতার সুনামির ঢেউ আছড়ে পড়ে উত্তর জাপানের হোক্কাইডো দ্বীপের উপকূলে।
রয়টার্স জানায়, ভূমিকম্পের পর প্রশান্ত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং বিভিন্ন উপকূলীয় অঞ্চল থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল পেত্রোপাভলোভস্ক-কামচাটস্কি শহর থেকে ১১৯ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে এবং ভূ-পৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১৯.৩ কিলোমিটার গভীরে।
প্রাথমিকভাবে কম্পনের মাত্রা ৮ বলা হলেও পরে তা সংশোধন করে ৮.৮ করা হয়। কিছুক্ষণ পর ৬.৯ মাত্রার একটি আফটারশকও অনুভূত হয়।
কামচাটকার গভর্নর ভ্লাদিমির সলোদভ এক ভিডিও বার্তায় বলেন, “গত কয়েক দশকের মধ্যে এটাই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। পরিস্থিতি ভয়াবহ ছিল।”
রাশিয়ার দুর্গম ওই অঞ্চলে বেশ কিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আঞ্চলিক জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী সের্গেই লেবেদেভ জানান, কামচাটকার কিছু এলাকায় ৩ থেকে ৪ মিটার উচ্চতার সুনামি রেকর্ড করা হয়েছে এবং উপকূলবর্তী বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জাপানের হোক্কাইডো উপকূলে প্রথম সুনামির ঢেউয়ের উচ্চতা ছিল প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্দরনগরী নেমুরোয় এই ঢেউ পৌঁছায়। স্থানীয় টেলিভিশন ফুটেজে দেখা যায়, বহু মানুষ পাহাড়ের দিকে দৌড়ে আশ্রয় নিচ্ছেন।
জাপানের পূর্ব উপকূলে ২০১১ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা এখনও তাজা। সে কারণেই কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই আগাম সতর্কতা দিয়ে রেখেছিল।
জাপানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এনএইচকের উপস্থাপক বলেন, “দয়া করে দ্রুত সরে যান। উঁচু স্থানে চলে যান এবং উপকূল থেকে দূরে থাকুন।”
মার্কিন কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, এই সুনামি ঢেউ তিন ঘণ্টার মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরের বিভিন্ন উপকূলে আঘাত হানতে পারে।
রাশিয়া ও ইকুয়েডরের কিছু অংশে তিন মিটারের বেশি এবং জাপান, হাওয়াই, চিলি ও সলোমন দ্বীপপুঞ্জে এক থেকে তিন মিটার উচ্চতার ঢেউয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হাওয়াইয়ে নিচু এলাকার বাসিন্দাদের উচ্চ ভবন বা উঁচু স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে কেউ দৌড়ে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন, কেউ জানালা দিয়ে লাফ দিয়েছেন। তবে গুরুতর কোনো আঘাতের খবর মেলেনি।
রাশিয়ান অ্যাকাডেমি অব সায়েন্স জানিয়েছে, ১৯৫২ সালের পর এটিই অঞ্চলটিতে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।
রাশিয়ার সেভেরো-কুরিলস্ক শহরের বন্দর ও একটি মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা جزতই প্লাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়।
কামচাটকা ও রাশিয়ার পূর্বাঞ্চল ‘রিং অব ফায়ার’ নামক ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। এখানে প্রায়ই ভয়াবহ ভূকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত ঘটে।
সূত্র : বিডিনিউজ
