বৃহত্তর চট্টগ্রাম জাতীয় পার্টির কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া বলেছেন, দেশের ৯ বছরের শাসনামলে সংস্কার, উন্নয়ন-সুশাসন প্রতিষ্ঠাকারী সফল রাষ্ট্রপতি পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাতে গড়া জাতীয় পার্টিকে অগ্নিসংযোগ করে প্রতিহিংসার রাজনীতির ট্যাক লাগিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না। এদেশে একমাত্র জাতীয় পার্টি সরকার উপজেলা সৃষ্টি করে ক্ষমতার বিকেন্দ্রিকরণ করে গ্রামের মানুষের রুটি-রোজির ব্যবস্থা করেছিলেন। যার মাধ্যমে আজকে উপজেলা হাসপাতালগুলো উপজেলার মৎস্য, চিকিৎসা, স্বাস্থ্য সকল কিছু জাতীয় পার্টিই চালু করেছিল। ভঙ্গুর বাংলাদেশে জাতীয় পার্টির হাতেই সেতু, রাস্তা-ঘাট, কালভার্ট, উন্নয়ন অগ্রগতির অবকাঠামো শুরু হয়েছিল। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থেকে শুরু করে সকল ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, মহত্ত ভাতা, চিকিৎসাভাতা, পেনশন ভাতা জাতীয় পার্টি সরকার চালু করেছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে মব সৃষ্টি করে জাপার কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশে অসংখ্য কার্যালয়ে বার বার অগ্নি সংযোগ করেও জাতীয় পার্টিকে শেষ করা যায়নি। দেশ ও জাতির প্রয়োজনে জাতীয় পার্টি আগামীতে জনগণের শক্তিতে বলিয়ান হয়ে এগিয়ে যাবেই ইনশাল্লাহ। যারা মনে করেছিলেন জাতীয় পার্টিকে ধ্বংস করে দিবেন আজকে তারাই ধ্বংসের কিনারে।
আজ ২২ আগস্ট, শনিবার সকাল ১০ টা থেকে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবস্থ জুলাই-বিপ্লব স্মৃতি মিলনায়তনে বৃহত্তর চট্টগ্রাম জাতীয় পার্টির কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য চট্টগ্রাম মহানগর জাপার আহ্বায়ক আলহাজ্ব আবু তাহের এর সভাপতিত্বে মহানগর জাপার যুগ্ম আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন ছিদ্দিকী ও কে.এম আবছার উদ্দিন রনি’র যৌথ পরিচালনায় বৃহত্তর চট্টগ্রাম জাতীয় পার্টির কর্মীসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জাপার কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য জহিরুল ইসলাম জহির, প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন তাপস, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা খলিলুর রহমান খলিল ও মো. নুরুচ্ছফা সরকার, জাপার কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আহাদ ইউ চৌধুরী শাহীন, কেন্দ্রীয় জাপা নেত্রী বহ্নি বেপারী।

বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর জাপার যুগ্ম আহ্বায়ক শওকত আকবর, প্রকৌশলী ফজলে আজিম দুলাল, অ্যাড. লিটন কান্তি গুহ, রোটারিয়ান এম.এ. মতিন, কক্সবাজার জেলা জাপার আহ্বায়ক অ্যাড. মো. তারেক, দক্ষিণ জেলার সদস্য সচিব আবদুর রব চৌধুরী টিপু, কক্সবাজার জেলা জাপার সদস্য সচিব অধ্যাপক নুরুল আমিন সিকদার, রাঙামাটি জাপার সাধারণ সম্পাদক প্রজেস চাকমা, দক্ষিণ জেলা জাপার যুগ্ম আহ্বায়ক বোরহান উদ্দিন ফারুকী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জাপার আহ্বায়ক হায়দর আলী চৌধুরী, সদস্য সচিব শফিউল-আজম চৌধুরী লিটন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা জাপার সভাপতি আবুল কাশেম, সাধারণ সম্পাদক মিথিলা রোয়াজা, বান্দরবান পার্বত্য জেলার সাধারণ সম্পাদক শওকতুজ্জামান মিশুক, মহানগর জাতীয় যুবসংহতির আহ্বায়ক অধ্যাপক নুরুল বশর সুজন, লামা আলী কদমের সাবেক সভাপতি এম. এ. সামাদ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য জহিরুল ইসলাম জহির বলেন, আগামীতে যারাই সরকার গঠন করুক, যারাই নির্বাচন করুক জাতীয় পার্টিকে বাদ রেখে সরকার বা রাজনীতি করা সম্ভব নয়। এদেশের রাজনীতির ইতিহাসে জাতীয় পার্টি ও সফল রাষ্ট্রপতি মহান সংস্কারক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বাংলাদেশের অবকাঠামোতে জড়িয়ে রয়েছে। যারা মনে করেন জাতীয় পার্টিকে ধ্বংস করে দিবেন তারাই বোকার স্বর্গে বাস করেন। বার বার জাতীয় পার্টি প্রতিকূল পরিবেশে এরশাদ আদর্শের ত্যাগী নেতাকর্মীদের কারণেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মহানগর আহ্বায়ক আলহাজ্ব আবু তাহের বলেন, এমন এক পরিবেশে আমি চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় পার্টির দায়িত্ব নিয়েছি যখন সারা বাংলাদেশে জাতীয় পার্টির উপর মব চলছে। অন্তর্বর্তী সরকারের রোষানলে থেকেই চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় পার্টি প্রত্যেকটি কেন্দ্র ঘোষিত সকল কর্মসূচি প্রতিবাদ, বিক্ষোভ সমাবেশ আমরা করেছি। যার কারণে আজ চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় পার্টি যে কোনো সময়ের চেয়ে অধিক শক্তিশালী। আজকের এই কর্মীসভায় ৭ জেলার নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিই প্রমাণ করে মহানগর জাতীয় পার্টি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বৃহত্তর চট্টগ্রাম জাতীয় পার্টির আজকের এই কর্মীসভায় আগত সকল নেতাকর্মীদের মহানগর জাতীয় পার্টি ও কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানাই।
সকাল থেকে শুরু হওয়া বিকাল অবধি বৃহত্তর চট্টগ্রাম জাতীয় পার্টির কর্মীসভায় উপস্থিত ছিলেন মহানগর জাপার যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ওসমান খান, সার্জেন্ট আবু তাহের, শেখ আকতার উদ্দিন, বাবুল আহমদ, দক্ষিণ জেলা জাপার যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মিয়া চৌধুরী, কক্সবাজার জাপার যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল করিম চৌধুরী, নগর যুবসংহতির যুগ্ম আহ্বায়ক এম. কায়সার হামিদ মুন্না, রাঙামাটি জাপার জ্যোতিবিকাশ চাকমা, যুবসংহতির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ তালুকদার, স্বেচ্ছাসেবক পার্টি আহ্বায়ক এম. আজগর আলী, সদস্য সচিব আশিকুর রহমান, শ্রমিক পার্টি এনামুল হক রাশেদ, মো. মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক হাফেজুর রহমান মিন্টু, জাপানেতা আরমান মিয়া, কৃষক পার্টির নুর আহমদ মিটু, ডা. মোস্তাফিজুর রহমান রাসেল, প্রাক্তন সৈনিক পার্টি নগর সভাপতি হাফেজুর রহমান, মহিলা পার্টি নেত্রী প্রিয়া আক্তার মুক্তা, জান্নাতুল ফেরদৌস, ছাত্র সমাজ নেতা শরিফুল মোল্লা নিরব, আরাফাতুল ইসলাম কচি প্রমুখ।
চট্টগ্রামনিউজ/ এসডি/
