সাতকানিয়ায় স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক কলহের ঘটনায় সালিশি বৈঠকে অপমান করায় বিষপানে এক কৃষক আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৩ জুলাই) রাত ১ টার দিকে উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে উত্তর বৈতরণী দাউন্দা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কৃষক হলেন, মো. কামাল উদ্দিন (২৮)। তিনি একই এলাকার মৃত ওমর মিয়ার ছেলে । তাঁর দুই ছেলে ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক সূত্র জানান, বিষপানে নিহত কৃষক মো. কামাল উদ্দিনের স্ত্রী মোছাম্মৎ সেলিনা আকতারের সাথে পুরানগড় ইউনিয়ন কৃষক লীগের যুগ্ম আহবায়ক ও একই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মামুনুর রশিদের অবৈধ পরকীয়ার সম্পর্ক রয়েছে। শনিবার রাত ১২ টার দিকে তারা স্বামী-স্ত্রী নিজেদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদের মীমাংসার জন্য সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকের আগে স্ত্রী সেলিনা আকতার তার স্বামীকে ইউপি সদস্যের হাতে মার খাওয়ানোর হুমকি দেন। একথা শুনে স্বামী কামাল উদ্দিন রাগান্বিত হয়ে বলেন, সাহস থাকলে মেম্বারকে ডেকে নিয়ে আসো এবং আমাকে মারতে বলো। এক পর্যায়ে তার স্ত্রী সেলিনা ইউপি সদস্য মামুনুর রশিদকে কল করে তাদের বাসায় ডেকে নিয়ে আসেন। তিনি এসেই স্বামী কামাল উদ্দিনকে বেধড়ক মারধর করেন। সেই মারধরের অপমান সইতে না পেরে রাত ১ টায় বিষপানে কৃষক কামাল উদ্দিন আত্মহত্যা করেন। তাৎক্ষণিক তাকে তাঁর স্ত্রী ও ইউপি সদস্যরা মিলে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় সম্পৃক্ত স্থানীয় ইউপি সদস্য মামুনুর রশীদ মারধরের কথা অস্বীকার করে বলেন, নিহত কামাল উদ্দিন ২য় বিয়ের জন্য উঠেপড়ে লাগে। এ নিয়ে তাদের (স্বামী-স্ত্রী) মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকতো। গত একমাস আগে তার স্ত্রী আমাকে পুরো ঘটনাটি অবগত করেন। ইদানিং সে বিয়ের জন্য তড়িঘড়ি করলে তার স্ত্রী গতকাল কেরানিহাটে অবস্থিত আমার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে এসে স্বামীর বিরুদ্ধে আমাকে বিচার দেন। আমি তাদেরকে থানা প্রশাসনের আশ্রয় নেওয়ার কথা বললে তারা পারিবারিকভাবে বসে সমাধান করে দেওয়ার জন্য আমাকে অনুরোধ করেন। এমতাবস্থায় রাতে দোকান বন্ধ করে বাসায় গিয়ে তাদের সমস্যাটি সমাধান করে দিব বলে আমি আশ্বাস প্রদান করি। দোকান বন্ধ করে আমি রাত ১২ টায় বাসায় পৌঁছায়। আমার পার্শ্ববর্তী ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মমতাজ উদ্দিন, একজন চৌকিদার ও সমাজের সর্দারকে নিয়ে সালিশি বৈঠকের জন্য ওদের বাড়িতে যায়। নিহত কামালের কাছ থেকে এত সুন্দর সংসার ছেড়ে দ্বিতীয় বিয়ের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে সে উত্তেজিত হয়ে পড়ে। তাকে আমি লাথি দিয়ে মেরে ফেলবো বলে হুংকার দিয়ে থামানোর চেষ্টা করি। সে আমাদের কোনো কথা কর্ণপাত করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এ সময় তার মা তাকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠেন ‘ আমাদের কেন এত জ্বালাচ্ছিস, তুই বিষ খেয়ে মরে যেতে পারিস না? ‘ একটু পরেই জানতে পারলাম সে বিষ পান করেছে। এমতাবস্থায় তাকে উদ্ধার করে আমরা হাসপাতালে নিয়ে গেলে ততক্ষণে সে মারা যান।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রিটন সরকার বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কীটনাশকপানে তার মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হলে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
