চট্টগ্রামে নবনির্মিত দোহাজারী- কক্সবাজার রেল লাইনের সাতকানিয়া অংশ থেকে রেললাইনের কয়েকটি ক্লিপ ও ক্লিপের নাট-বল্টু খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
গতকাল রোববার (১২ নভেম্বর) রাতে উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড রক্ষিত বাড়ি এলাকা থেকে ক্লিপ ও নাট-বল্টুগুলো খুলে নেওয়া হয়। ফলে রেল চলাচলে দেখা দিয়েছে ঝুঁকি। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আনসার সদস্য নিয়োগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বিশু রক্ষিত জানান, আমাদের বাড়ির সামনে রেললাইনে রোববার রাতে ও সোমবার সকালে পুলিশ এসেছিল। শুনেছি রেল লাইনের ক্লিপ ও নাট-বল্টু খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা ।
রেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, স্লিপারের সাথে রেল লাইনের পাত আটকে রাখতে ক্লিপ (হাতুড়ি আকারের লোহার খন্ড) ব্যবহার করা হয়। একটি স্লিপারের দু’পাশে চারটি করে ক্লিপ থাকে ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, রক্ষিত বাড়ির সামনে রেললাইনে প্রতি রাতে বখাটে ও নেশাখোরদের আড্ডা বসে। তারা সুযোগ বুঝে দীর্ঘদিন ধরে দোকান ও বসত ঘরে চুরি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে তাঁরাই এ কাজ করেছে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় কালিয়াইশ ইউনিয়ন (ইউপি) পরিষদের চেয়ারম্যান হাফেজ আহমদ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুল গফুর মুক্তা অবগত নয় বলে জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে দোহাজারী-কক্সবাজার রেল লাইন নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো.সবুক্তগীন ও অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক মো.আবুল কালাম চৌধুরীর মোবাইল ফোনে বার বার কল দিলেও ফোন রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে এ ব্যাপারে রেল লাইন তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত রেজাউল করিমও ঘটনাটি অবগত নয় বলে জানান।
সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি)শিবলী নোমান বলেন, চুরির উদ্দেশ্যেই এ ঘটনা ঘটেছে। তবে এটি নাশকতা নয়। ঘটনাস্থলে আনসার মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশী টহলও চলছে।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিল্টন বিশ্বাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রেল লাইনের একটি ক্লুিপ খুলে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে রেল লাইন নির্মাণ প্রকল্পের পিডি’র সাথে কথা বলেছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করা হবে।
