বাইরের হস্তক্ষেপ যত কম হবে, বাংলাদেশের অগ্রগতির জন্য ততই মঙ্গল বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।
রোববার চট্টগ্রামের শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে দিনব্যাপী ‘সম্প্রীতির উৎসব’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নওফেল বলেন, পশ্চিমা কূটনৈতিকদের বলি, দেশে বৈশ্বিক মানদণ্ডে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা অবশ্যই আমরা ধরে রাখব। গণতন্ত্র রক্ষার নামে সরকার ও দলকে যখন আক্রমণ করা হয়, তা দুঃখজনক।
ইউরোপ আজকের অবস্থানে একদিনে আসেনি। ৫০০ বছর অন্ধকার যুগ কাটিয়ে, উপনিবেশ করে, সারা বিশ্ব থেকে সম্পদ আহরণ করে তারা এখানে এসেছে।
গণতন্ত্র আমাদের এ ভূখণ্ডের মানুষের মজ্জায়। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হচ্ছে বলে, যে অভিযোগ করা হয় তা ঠিক নয়।
চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য নওফেল বলেন, আমাদের বাস্তবতা কি? আমাদের চ্যালেঞ্জ ভিন্ন। আপনারা আইন করে ইউরোপে নাৎসিদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছেন। আর ৭৫ এর পরে আমাদের রাষ্ট্রের বিরোধীতকারীদের এখানে বছরের পর বছর পৃষ্ঠপোষকতা করা হয়েছে৷
যারা বাংলাদেশের অস্তিত্বই স্বীকার করে না তাদের নিয়ে দেশ চালানো অনেক কঠিন। বিভিন্ন অপশক্তিকে প্রশ্রয় দেওয়ার প্রবণতা যা দেখছি, তা যেন কমে। আমাদের সংগ্রাম আমাদের মতই হবে। বাইরে থেকে যত কম হস্তক্ষেপ হবে ততই ভালো হবে।
‘স্মার্ট বাংলাদেশের স্মার্ট ও দায়িত্বশীল নাগরিক গঠনের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ, সহনশীল ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ বিনির্মাণ’ স্লোগান নিয়ে সম্প্রীতির উৎসব আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশে নরওয়ে দূতাবাস এবং আইসিটি বিভাগের সহায়তায় জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) ‘পার্টনারশিপ ফর আ মোর টলারেন্ট, ইনক্লুসিভ বাংলাদেশ (পিটিআইবি)’ প্রকল্পের অধীনে আয়োজন করা হয় এ অনুষ্ঠান।
প্রতিক্রিয়াশীলরা ‘সংগঠিত’ মন্তব্য করে নওফেল বলেন, “কর্ম জগতে নারীদের প্রবেশ ঠেকাতে অতি রক্ষণশীল মতবাদ তারা প্রচার করছে। এদের প্রচারে আমাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা প্রভাবিত হয়ে যায়। সম্প্রতি দুয়েকজন ক্রিকেটারও এমন প্রচার করেছে, নারীদের কাজে যোগদান বিষয়ে৷
নরওয়ের রাষ্ট্রদূত এসপেন রিকটার ভেন্ডসেন বলেন, সম্প্রীতি ও সহনশীলতা এত সহজ নয়। ভিন্নতাকে মেনে নেওয়া হল সহনশীলতা, এটা কঠিন। অনুশীলনের মাধ্যমে তা অর্জন করতে হয়। ভিন্ন মত প্রকাশ, শান্তি ও গণতন্ত্রের জন্য সম্প্রীতি প্রয়োজন।
আমরা দ্বিধায় ভুগি টলারেন্স নিয়ে। সবার ভিন্ন মতে আমরা এক মত হব তা নয়। কিন্তু অন্যের মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য নিজেদের সর্বোচ্চ দিতে হবে।
ইন্টারনেট ও সোশাল মিডিয়া যোগাযোগের অবারিত সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু মিথ্যা তথ্য ছড়ানোসহ নানা কারণে তা সংকটেরও জন্ম দেয়। অন্তর্ভুক্তিমূ্লক সমাজ থাকলে নানা বৈষম্য ও প্রতিহিংসা ছড়ানো বন্ধ করা সম্ভব। তারুণ্যের শক্তিই সবসময় এগিয়ে যেতে পারে এ কাজে।
চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্যি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদ্বেষমূলক ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ছড়ানো হয়। আমরা চাকমা সার্কেল চেষ্টা করছি সকল সম্প্রদায়ের সঙ্গে সকল ধর্মের মানুষের যাতে সহবস্থান হয়।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান, ইউনেস্কোর অফিসার ইন-চার্জ সুসান ভাইজ, আইসিটি ডিভিশনের পিটিআইবি প্রকল্পের পরিচালক আবু সাঈদও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
