চট্টগ্রামে এক ব্যক্তিকে খুনের ঘটনায় তারই স্ত্রী-ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিন হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই।
রোববার শুনানি শেষে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম সরোয়ার জাহান এ আদেশ দেন বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক ইলিয়াস খান জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে পতেঙ্গা ১২ নম্বর ঘাট সংলগ্ন বিমানবন্দর সড়কের একটি গলির ভেতর রাস্তার পাশে ঝোঁপে একটি লাগেজ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয় এক নারী।
পরে পুলিশ গিয়ে লাগেজ খুলে হাত- পায়ের আটটি খণ্ডিত অংশ দেখতে পায় এবং সেগুলো উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পতেঙ্গা থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করে।
খণ্ডিত হাত-পা উদ্ধারের পর পিবিআই আঙ্গুলের ছাপ সংগ্রহ করে। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী ওই ব্যক্তির নাম মো. হাসান বলে শনাক্ত করেন। তার বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার কাথারিয়া ইউনিয়নের বড়ইতলি গ্রামে।
পরিচয় শনাক্তের পর পিবিআই শুক্রবার নিহত হাসানের স্ত্রী ও বড় ছেলে মোস্তাফিজুর রহমানকে আটক করে। ছেলে মোস্তাফিজের দেওয়া তথ্যে শনিবার সকালে আকমল আলী রোডের খাল থেকে হাসানের গলার নিচ থেকে কোমর পর্যন্ত অংশ উদ্ধার করে।
পিবিআই জানায়, ২৮ বছর ধরে যোগাযোগবিহীন থাকার পর মাস ছয়েক আগে হাসান পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এসময় স্ত্রী-সন্তানরা হাসানকে তার সম্পত্তি লিখে দিতে বললে এতে অমত পোষণ করেন হাসান।
এ নিয়ে বিতণ্ডার জেরে গত ১৯ সেপ্টেম্বর আকমল আলী রোডের জমির ভিলায় ছোট ছেলের বাসায় ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসানকে। সেখানে তাকে খুন করে লাশ গুমের জন্য তা কেটে টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ছোট ছেলে ও সেই ছেলের স্ত্রীকে ধরতে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করছে।
