ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত একদিনে আরও ৩০২৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন; এইডিস মশাবাহিত এ রোগে মৃত্যু হয়েছে আরো সাতজনের।
এ নিয়ে টানা তিন দিন তিন হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হল। এর মধ্যে গত রোববার রেকর্ড ৩১২২ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। সোমবারও ৩০৮৪ জন রোগী ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে যান।
আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছর হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৯৫ জনে। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৪৬ জনে।
হাসপাতালে ভর্তি রোগী এবং মৃত্যুর এই সংখ্যা অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে এমন আশঙ্কা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের।
হাসপাতালে ভর্তি নতুন রোগীদের মধ্যে ৮৪৯ জন ঢাকায় এবং ২১৭৮ জন ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে।
বর্তমানে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছে ১০ হাজার ১০২ জন ডেঙ্গু রোগী। তাদের মধ্যে ৩৮১৪ জন ঢাকায় এবং ৬২৮৮ জন ঢাকার বাইরে।
এ বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েই চলেছে। জুন মাসে পাঁচ হাজার ৯৫৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, জুলাই মাসে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৩ হাজার ৮৭৬ জন।
অগাস্ট মাসে ৭১ হাজার ৯৭৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। আর সেপ্টেম্বরের ১৮ দিনেই ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৫০ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
মাসের হিসাবে, জানুয়ারিতে ৫৬৬ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১৬৬ জন, মার্চে ১১১ জন, এপ্রিলে ১৪৩ জন, মে মাসে এক হাজার ৩৬ জন, জুন ৫ হাজার ৯৫৬ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
জুনে সারাদেশে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। জুলাইয়ে ২০৪ জন, অগাস্টে ৩৪২ জনের মৃত্যু হয়। সেপ্টেম্বর মাসের ১৯ দিনে ২৫৩ জন মারা গেছেন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে।
এছাড়া জানুয়ারিতে ৬ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩ জন, এপ্রিলে ২ জন, মে মাসে ২ জন এবং জুনে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল ডেঙ্গুতে।
এ বছর এইডিস মশা শনাক্তে চালানো জরিপে ঢাকায় মশার যে উপস্থিতি দেখা গেছে, তাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলছেন বিশেষজ্ঞরা। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এ বছর যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের প্রায় সবাই ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারে ভুগছিলেন এবং শক সিনড্রোমে মারা গেছেন।
