বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে তৈরি বায়োপিক ইতিহাসের এক ‘অনন্য দলিল’ হয়ে থাকবে বলে মনে করেন এ চলচ্চিত্রের পরিচালক ভারতীয় নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল।
এই চলচ্চিত্রকার বলেছেন, মুজিবের জীবনের জানা-আজানা নানা গল্প পর্দায় তুলে ধরতে পেরে ‘অত্যন্ত সম্মনিত’ বোধ করছেন তিনি।
বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনায় তৈরি হওয়া শেখ মুজিবের বায়োপিক ‘মুজিব – দ্য মেকিং অব আ নেশন’ এর উদ্বোধনী প্রদর্শনী হয় ৪৮তম টরন্টো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভালে (টিআইএফএফ)। এ চলচ্চিত্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতার রূপকারের ব্যক্তি ও রাজনৈতক জীবন ফুটিয়ে তুলেছেন বেনেগাল।
ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকলেও এক বিবৃতিতে বেনেগাল বলেন, আমি নিশ্চিত, এই সিনেমার মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানের গল্প এবং বাংলাদেশ গড়ায় তার যাত্রা সারা বিশ্বের মানুষের কাছে প্রতিধ্বনিত হবে।
পৃথিবীর বুকে একটি জাতি গঠনের এই অনুপ্রেরণামূলক গল্প বলার কাজে অংশ নিতে পেরে আমি সস্মানিত। এটি একটি অনন্য দলিল।
বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ প্রযোজনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনীচিত্র নির্মাণের কাজ চলছে গত কয়েক বছর ধরে। গত বছরের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে সিনেমার পোস্টার প্রকাশ হয়।
ওই পোস্টারে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের মুহূর্তকে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রথমে এই বায়োপিকের নাম ছিল ‘বঙ্গবন্ধু’; পরে নাম হয় ‘মুজিব-দ্য মেকিং অব আ নেশন’। যার বাংলা দাঁড়িয়েছে ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’।
সিনেমার নির্মাতা ভারতীয় হলেও অভিনয় শিল্পীদের সবাই বাংলাদেশের। সিনেমায় বঙ্গবন্ধুর চরিত্র করেছেন আরিফিন শুভ, শেখ হাসিনা হয়েছেন নুসরাত ফারিয়া।
বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী শেখ ফজিলাতুন্নেছার চরিত্রে অভিনয় করছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা। এ ছাড়া শতাধিক অভিনয়শিল্পী কাজ করছেন সিনেমায়।
শুভকে নিয়ে বেনেগাল বলেন, শুভর কাছে আমার পরামর্শ ছিল, সে যেন একটু একটু করে ওজন বাড়ায়। কিন্তু সে নায়ক, আমি চিন্তায় ছিলাম, শুভ এমনটা করতে রাজি হবে কি না। কিন্তু কোনো প্রশ্ন না করে চরিত্রের প্রয়োজনে শুভ সব কথা শুনেছে।
আরিফিন শুভ বললেন, এই সিনেমার গল্পটাও আমি জানতে চাইনি। কারণ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং নির্মাতা শ্যাম বেনেগালই আমার জন্য যথেষ্ট কাজটি করার জন্য।
বঙ্গবন্ধুর জীবনের খুঁটিনাটি অনেক কিছু মানুষ এ সিনেমার মাধ্যমে জানবে মন্তব্য করে শুভ বলেন, উদ্বোধনী শোতে দর্শকদের সঙ্গে বসে সিনেমাটি দেখে কী অনুভূতি হয়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।
এই দুর্দান্ত বায়োপিকটিতে বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করাটা সম্মানের। মুজিব এক হৃদয়স্পর্শী নাম।
২০২১ সালের জানুয়ারির শেষ দিকে মুম্বাইয়ের দাদা সাহেব ফালকে স্টুডিওতে সিনেমার প্রথম ধাপের শুটিং শুরু হয়। পরে শুটিং হয় ঢাকায়।
সিনেমার চিত্রনাট্য লিখেছেন অতুল তিওয়ারি ও শামা জায়েদি। বেনেগালের সহযোগী পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন দয়াল নিহালানি। শিল্প নির্দেশনার দায়িত্বে ছিলেন নীতিশ রায়। কস্টিউম ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেছেন শ্যাম বেনেগালের মেয়ে পিয়া বেনেগাল।
