চট্টগ্রামের রাউজানে পাহাড়ি ঢল আর বৃষ্টিতে হালদা এবং কর্ণফুলী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় নদীর তীরবর্তী গ্রাম গত চারদিন ধরে তলিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন ভেঙে পড়ছে রাস্তাঘাট, বসতঘর।
পাশাপাশি তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা ও মাছ চাষ করা পুকুর। পানিতে ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন এসব গ্রামের বাসিন্দারা। আর চাষীরা পড়েছেন বড় ধরণের লোকসানে।
পানিতে ডুবে যাওয়া গ্রামগুলো হল উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম নোয়াপাড়া, মোকামীপাড়া, সাম মাহালদারপাড়া, ছামিদর কোয়াং, কচুখাইন, দক্ষিণ নোয়াপাড়া, পলোয়ানপাড়া, উরকিরচর ইউনিয়নের মইশকরম, সওদাগরপাড়া, সুজারপাড়া, পূর্ব উরকিরচর, খলিফার ঘোনা, বৈইজ্জাখালি, বাগোয়ান ইউনিয়নের কর্ণফুলী তীরবর্তী কয়েকটি গ্রাম।
এসব গ্রামে রাস্তাঘাট, ঘর বাড়ি ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি আমন ফসল ও মাছের শতাধিক পুকুর ভেসে গেছে বলে জানিয়েছে ক্ষতিগ্রস্তরা।
আজ (৬ আগস্ট) রবিবার দুপুরে হালদা নদীর তীরবর্তী নোয়াপাড়া ইউনিয়নের গ্রাম মোকামীপাড়া ও উরকিরচরে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামে ঢোকার দুটি সড়ক কোমরসমান পানিতে ডুবে গেছে।
গ্রামের প্রায় ২০০ পরিবার অনেকটা ঘরবন্দী সময় কাটাচ্ছেন। আমন ফলানো শত শত একর চাষি জমি ডুবে আছে ৮-১০ ফুট উচ্চতার পানিতে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হালদা নদীতে বেড়িবাঁধ না থাকায় অমাবস্যা-পূর্ণিমা তিথিতে জোয়ারের উচ্চতা বাড়ার কারণে গ্রামগুলোতে পানি ঢুকে পড়ে।
এবার বৃষ্টির কারণে পানি আরও বেশি বেড়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন তাঁরা। নদী পাড়ের কৃষি জমি একারণে অরক্ষিত। বর্ষায় পানি বাড়লেই চাষ করা জমি গুলো ৮-১০ ফুট পানিতে ডুবে থাকে।
মোকামীপাড়া গ্রামের মৎস্য খামারী কাজী মিনহাজ জানান, তাঁরা কয়েকজন মিলে চারটি বড় পুকুরে মাছ চাষ করেছেন এবার। এসব পুকুরের একটিতেও কোন মাছ অবশিষ্ট নেই। সব মাছ পানিতে ভেসে গেছে।
তাঁদের চাষকৃত পুকুরগুলোতে ৫ থেকে ৬ ফুট বেশী পানির স্রোতে সব ভেসে গেছে। তাঁর দাবী ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার তাঁদের চাষ করা মাছ ভেসে গেছে।
মুহাম্মদ ইসমাইল নামের এক কৃষক বলেন, তিনি এবার ১০ শতক জমিতে আমন রোপন করেছিলেন। কিন্তু এসব ফসল হালদার তীব্র পানির স্রোত জমিতে ঢুকে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে।
