রাউজানের নোয়াপাড়া ইউনিয়নে পাওনা টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ এনে কাজী দিদারুল আলম (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে পাওনাদারের বাড়িতে পাঁচ দিন আটকে রেখে নির্যাতন করার পর লাশ উদ্ধারের মামলা অভিযুক্ত ইদ্রিস মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭।
আজ মঙ্গলবার(২৩ মে) ভোর রাতে অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া এলাকার একটি আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া মুহাম্মদ ইদ্রিস মিয়া (৫০) রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের মোকামী পাড়া গ্রামের খলিল দফদারের বাড়ির মৃত নুরুল আমিনের ছেলে।
পাওনাদার দাবী করা মুহাম্মদ ইউনুছের বাড়ির শয়ন কক্ষের খাটে গলায় লুঙ্গি পেছানো অবস্থা গত মঙ্গলবার কাজী দিদারুল আলমে এক ব্যাক্তির লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।
এ মামলার আসামীরা হলেন, একই গ্রামের ইউনুচ ড্রাইভারের বাড়ির মৃত সায়ের আহমদের ছেলে মুহাম্মদ ইউনুছ (৫০), খলিল দফাদারের বাড়ির মৃত নুরুল আমিনের ছেলে মুহাম্মদ ইদ্রিস মিয়া (৫০), চট্টগ্রাম নগরীর চান্দ্গাওয়ের বাসিন্দা মুহাম্মদ আলমগীর (৫০) ও ফেরদৌস নামের একজনসহ অজ্ঞাত আরও সাত আটজন।
র্যাব-৭ এর হাটহাজারী ক্যাম্প ও থানা পুলিশ সূত্র জানায়, ঘটনার পরদিন থানায় সুনির্দিষ্ট চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত সাত আটজনকে আসামী করে নিহতের ছেলে কাজী মিনারুল আলম বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। এরপর পুলিশ প্রত্যেক আসামীর বাড়িতে তাল্লাশী চালিয়েছে তবে আসামীরা সবাই পরিবারসহ বাড়ি ছেড়ে পলাতক ছিলো।
আরো পড়ুন:রাউজানে পাওনাদারের ঘরে মিলল টাকা গ্রহিতার লাশ
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নিহত কাজী দিদারুলের কাছ থেকে আসামিরা ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা পাওয়ার দাবী করতেন। নানাভাবে পাওনা টাকা আদায়ে চাপ দিতেন ইউনুছ আর ইদ্রিসের নেতৃত্বে সাত আটজন। এরপর গত আড়াই বছর আগে বাড়ি ছেড়ে স্ত্রী সন্তান নিয়ে চট্টগ্রাম নগরে চলে যান দেনাদার দিদারুল। তবে পরিবার বলছে মাসে মাসে দেনাশোধ করতে পাওনাদারদের কিস্তি হিসেবে টাকা দিতেন দিদারুল। এরমধ্যে গত শুক্রবার রাতে দিদারুলকে চট্টগ্রাম নগর থেকে তুলে আনেন ইউনুস আর ইদ্রিস মিয়াসহ সাত আটজন। সবাই মিলে আটকে রাখেন ইউনুছের পাকা বাড়ির একটি বদ্ধ কক্ষে। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার বিকেলে ইউনুছের পাকা বাড়ির ওই কক্ষে খাটের উপর গলায় লুঙ্গি পেছানো ফাঁস লাগানো অবস্থায় তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে থানায় মামলা হয়।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল হারুন বলেন, ভোরে আসামী মুহাম্মদ ইদ্রিস মিয়াকে থানায় হস্তান্তর করে র্যাব- ৭ চট্টগ্রাম এর হাটহাজারী ক্যাম্প। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিকেলে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। অন্য আসামীদেরও শিগগির গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।
