বন্দর ও লজিস্টিকস অবকাঠামোসহ চট্টগ্রাম অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) বড় পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ পরিকল্পনা নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করতে এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট চট্টগ্রাম সফর করছেন বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে আয়োজিত বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম শুধু লজিস্টিকস হাব হবে না। আগামী দিনে আমরা চট্টগ্রামকে উন্নয়নের অগ্রপথিক হিসেবে দেখতে চাই। এখানে বন্দর আছে, লজিস্টিকস হাব হবে, এর সঙ্গে অন্যান্য উন্নয়নও গড়ে উঠবে। এ অঞ্চলে এডিবির বড় পরিকল্পনা রয়েছে।
ব্যবসার পরিবেশ সহজ করতে বন্দর ও কাস্টমসের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোও চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ব্যবসা সহজ করার ক্ষেত্রে অতীতে বিভিন্ন পর্যায়ে যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে এবং বিভিন্ন বিধিবিধানের মাধ্যমে ব্যবসায়িক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে, সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে সরকার বাজেটে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার কথা জানিয়েছে। এটি আরো কার্যকর ও বাস্তবায়নের জন্য নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের মধ্যে আজকের বৈঠকও একটি।
বন্দর ও কাস্টমসের অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তার ওপর পড়ে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য বাড়ার অন্যতম কারণ বন্দরে অতিরিক্ত খরচ ও কাস্টমসের দীর্ঘসূত্রতা। বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে। বন্দর ও এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে আমরা যৌথভাবে বসে কোথায় কোথায় সমস্যা আছে, তা চিহ্নিত করেছি। প্রতিটি সমস্যার সমাধান কী হওয়া দরকার, সে সিদ্ধান্তও নিয়েছি এবং তা লিপিবদ্ধ করেছি। কোন সিদ্ধান্ত কত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে, সেটিও নির্ধারণ করা হয়েছে।
বন্দর ও কাস্টমসের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে বন্দর ও কাস্টমস যাতে একসঙ্গে কাজ করতে পারে, সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তাদের একসঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা অনেক আগে থেকেই ছিল। প্রথমবারের মতো যৌথভাবে বন্দর-কাস্টমস যাতে কাজ করতে পারে, সে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বন্দরের সমস্যা ও কাস্টমসের সমস্যা নিয়ে দুই পক্ষ একসঙ্গে বসে সমাধান করবে। এ সিদ্ধান্ত দুই পক্ষ মিলেই নেয়া হয়েছে। এগুলো শিগগিরই কার্যকর হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এর ফলে চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমসের কার্যক্রম আরো গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বন্দরে খরচ বাড়লে সেটি জনগণকে দিতে হয়। কাস্টমসের কারণে খরচ বাড়লেও সেই ব্যয় জনগণকেই বহন করতে হয়। এ খরচগুলো যাতে আগামী দিনে জনগণের ওপর চাপাতে না হয়, ব্যবসায়ীদের ওপরও না চাপাতে হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আমাদের টিকে থাকতে হবে। প্রতিযোগিতায় না থাকলে আগামী দিনের বিশ্ববাজারে আমরা টিকে থাকতে পারব না।
মন্ত্রী বলেন, ষড়ঋতুর বাংলাদেশে মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে দুর্যোগ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রতিবছর নানা ধরনের দুর্যোগে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্যোগে সব হারানো মানুষের পাশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
এসময়, ইউনিসেফের সিনিয়র উপদেষ্টা থমাস মাইকেল কে বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় একটি বিশাল প্রতিষ্ঠান এবং বিপুলসংখ্যক তরুণ এর সঙ্গে যুক্ত। তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আমরা একসঙ্গে কাজ করছি। বাংলাদেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য দক্ষতা ও কর্মমুখী শিক্ষার সুযোগ আরো সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন এবং এ লক্ষ্যেই আমাদের অংশীদারত্ব।
বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে সফল হতে শুধু কারিগরি প্রশিক্ষণ যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি ভাষাগত দক্ষতা, পেশাদারত্ব, সময়ানুবর্তিতা, দায়িত্ববোধ এবং জাপানি কর্মসংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি।
চট্টগ্রামনিউজ/ এসডি/
