সাতকানিয়ায় পিতার কুড়ালের আঘাতে মানসিক ভারসাম্যহীন মো.আক্কাস উদ্দিন (২৩) নামে এক পুত্র ঘটনাস্থলে খুন হয়েছেন।
গত রবিবার (২৬ ফেব্রুয়ারী)রাতে উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড পূর্ব গাটিয়াডেঙ্গা তক্তার মসজিদ চরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার রাতেই পিতা হোছন আহমদ (৬৫) কে গ্রেপ্তার ও ঘটনায় ব্যবহৃত কুড়ালটি উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় রবিবার মধ্য রাতে আক্কাসের বড় ভাই মো.ইউনুস বাদী হয়ে পিতাকে একমাত্র আসামি করে সাতকানিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন বলে থানার ওসি ইয়াছির আরাফাত জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন পাগলামি বেড়ে যাওয়াই সন্ধ্যার পর থেকে খুন হওয়া আক্কাস ঘরে থাকা দা ও কুড়াল নিয়ে তার মা ও বাবাকে কয়েকবার মারতে উদ্যত হলেও ব্যর্থ হয়। রাতে ঘরে ঢুকে আক্কাস আবারও তার মা-বাবাকে কুড়াল দিয়ে মারতে চাইলে পিতাপুত্র হাতাহাতিতে লিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে পিতা রাগান্বিত হয়ে পুত্রের কাছ থেকে কুড়ালটি কেড়ে নিয়ে পুত্রের মাথায় পর পর কয়েকটি আঘাত করলে ঘটনাস্থলে পুত্র মারা যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার ও পিতাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে নলুয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাহবুব আলম বলেন, খুন হওয়া আক্কাসের দাদীও পাগল ছিল। তারা চার ভাইয়ের মধ্যে প্রথম ছেলে ছাড়া সবাই মানসিক ভারসাম্যহীন। এদের মধ্যে মেঝ ছেলে প্রায় তিন বছর আগে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন। তাদের বাবা হোছন আহমদও পুরোপুরি সুস্থ নয়।
সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শিবলী নোমান বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা যায়, প্রথমেই সন্তানই পিতাকে কুড়াল দিয়ে মারতে যায়। পরে পিতাও আত্মরক্ষার্থে পুত্রের হাত থেকে কুড়াল কেড়ে নিয়ে মাথায় পর পর তিনটি আঘাত করলে পুত্র ঘটনাস্থলে মারা যান। শিবলী নোমান আরও বলেন, এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পুত্র দীর্ঘদিন ধরে পুরোপুরি মানসিক ভারসাম্যহীন। তার পিতাও অনেকটা পুত্রের মত।
এব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ঢেমশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত উপ-পরিদর্শক মো.জাহাঙ্গীর আলম বলেন,প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পিতা খুনের কথা স্বীকার না করলেও পিতা যে কুড়াল দিয়ে আঘাত করে পুত্রকে খুন করে সে বিষটি মা নিশ্চিত করেন।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াসির আরাফাত বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের নিকট লাশ হস্তান্তর করা হবে। পিতাকে আজ (সোমবার) সকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পিতাকে রিমান্ডে আনার জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।
