চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে কনফিডেন্স লবণ কারখানায় দগ্ধ আরও দুইজন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ নিয়ে কারখানার অগ্নিকান্ডের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে চার শ্রমিক মারা গেলে।
তারা হলেন-বোয়ালখালীর পশ্চিম গোমদণ্ডী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড চরখিজিরপুর গ্রামের উত্তর সাতঘড়িয়া পাড়ার নূর ছফার ছেলে নুর নবী হৃদয় (২৫) ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের শান্তিরহাটের মধুরামপাড়ার বাসিন্দা উজ্জ্বল দাশ (৫৩)।
রোববার (১৯ জুলাই) বিকাল ৩টায় ও রাত সাড়ে ১০টায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক চিকিৎসাধীন দুই শ্রমিকের মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, নুর নবী হৃদয় (২৫) ও উজ্জ্বল দাশ (৫৩) নামে আরও দুই শ্রমিক মারা গেছেন।
জানা গেছে, দুর্ঘটনার কয়েকদিন আগে একজন ঠিকাদারের অধীনে চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক হিসেবে কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেড কারখানায় কাজে যোগ দেন উজ্জ্বল দাশ।
তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পোমরায় হানাদার বাহিনীর হাতে একসঙ্গে জীবন্ত কবর দেওয়া ১৪ শহীদের একজন বিরাজ দাশের ছেলে। নুর নবী হৃদয় দুই বছর আগে বিয়ে করেছে। তার ১ বছর বয়সী ছেলে আছে।
চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের এক চিকিৎসক জানান, আগুনে দগ্ধ উজ্জ্বল দাশের শরীরের ৫০ শতাংশ ও নূর নবী হৃদয়ের শরীরের ৪৫ শতাংশ পুড়ে যায়।
অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। তাপরও তাদের বাঁচানো যায়নি।
এর আগে ১৬ জুলাই সন্ধ্যায় চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দিদারুল আলম (৩২) ও মোহাম্মদ আলম (৪৫) নামের দুই শ্রমিক। এ নিয়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এর আগে গত ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে কনফিডেন্স লবণ কারখানায় এক বিস্ফোরণে ১০ জন দগ্ধ হন। ওইদিন তাদের চমেক হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হলে রাতে দুইজন মারা যান।
এই নিয়ে বোয়ালখালীর কনফিডেন্স লবণ মিলের অগ্নিকান্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত চারজন মারা গেছে।
চট্টগ্রাম নিউজ / এসডি/
