চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে একটি ট্যাংক থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। সকাল দুর্টনার পরপরই ৫ জন শ্রমিক মারা যায়। এরপর আরো ৩ জনের মৃত্যু হয়। এখন এই মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ জনে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো বেশ কয়েকজন।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) জুনায়েত কাউছার বলেন, শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ৯ জন মারা গেছেন।
এর আগে আজ শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে ইয়ার্ডে একটি জাহাজে হাউসকিপিংয়ের কাজ করার সময় এ বিষক্রিয়ার ঘটনা ঘটে।
ফেরদৌস স্টিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ‘ইয়ার্ডের সেফটি টিম প্রথমে একটি ট্যাংক থেকে গ্যাস নির্গমনের বিষয়টি দেখতে পায়। পরে সেফটি টিমের কয়েকজন সদস্য গ্যাস লিকের বিষয়টি পরীক্ষা করতে গেলে কয়েকজন শ্রমিক আহত হন। আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমরা জানতে পেরেছি ৯ জন শ্রমিক মারা গেছেন।’
তবে আহতের সঠিক সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের (ডিআইএফই) উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মাহবুবুল হাসান জানান, আমরা ১০ জন শ্রমিক আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। তাদের মধ্যে কয়েকজনের মৃত্যুর বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হতে পেরেছি। বাকিদের সর্বশেষ অবস্থা জানার চেষ্টা করছি।
তিনি আরও জানান, গ্যাস নির্গমনের কারণ এবং ইয়ার্ডে শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশিক জানান, দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে ভাটিয়ারীর ফেরদৌস স্টিলের ঘটনায় গুরুতর আহত বেশ কয়েকজনকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মধ্যে পাঁচজনকে দুপুরেই মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে মরদেহগুলো হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। একজনকে ২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের তাৎক্ষণিক নাম পরিচয় জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্ক্র্যাপ এলএনজি জাহাজের একটি ট্যাঙ্ক থেকে গ্যাস বের হতে দেখে কয়েকজন সেখানে এগিয়ে যান। এ সময় তারা বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর শিপইয়ার্ড এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গ্যাস লিকেজের কারণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
চট্টগ্রামনিউজ/ এসডি/
