চট্টগ্রামে হেযবুত তওহীদের কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৮ নভেম্বর) সকালে নগরীর জামালখান প্রেসক্লাবের জুলাই স্মৃতি হলে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সম্মেলনে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিভাগের সহ-সম্পাদক রাকিব আল হাসান। বৈশ্বিক ও দেশীয় প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, “সুদানে গণহত্যা, ফিলিস্তিনে নারী-শিশু হত্যা এবং মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিপীড়নের মতো নির্মম ঘটনা আজ বিশ্ব বাস্তবতা। ১২ কোটিরও বেশি মানুষ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত। মানবজাতি আজ গভীর সংকটে।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে শান্তির আশায় সরকার পরিবর্তন হলেও কাঙ্ক্ষিত শান্তি আসেনি। পরিসংখ্যান বলছে, গত ৯ মাসে ২ হাজার ৯১১টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। শুধু জানুয়ারি-জুলাই সময়েই ৩০১টি অজ্ঞাত-পরিচয় মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এসব পরিসংখ্যান দেশের সার্বিক অস্থিরতারই প্রতিচ্ছবি।”
ফেব্রুয়ারিতে সম্ভাব্য নির্বাচনের ইঙ্গিত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভাঙা ব্যবস্থার ওপর সমাধানের আশা করা মাকাল ফলের গাছে আম খোঁজার মতোই অলীক।”
তার মতে, “শান্তির একমাত্র পথ আল্লাহ প্রদত্ত জীবনব্যবস্থা। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে কোরআনভিত্তিক আদর্শই সমাধান।”
তিনি জানান, হেযবুত তওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম কোরআনকে ভিত্তি করে “তওহীদভিত্তিক আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা” শীর্ষক গ্রন্থ রচনা করছেন, যেখানে জাতির সংকট সমাধানের দিকনির্দেশনা থাকবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন হেযবুত তওহীদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় আমির মাহাবুব আলম।
তিনি বলেন, “ব্রিটিশরা আমাদের ২০০ বছর শাসন করলেও গণতন্ত্র দেয়নি, কিন্তু দেশ ছাড়ার সময় বিভক্তির রাজনীতি চাপিয়ে দিয়ে গেছে। এর ফলে দেশ আজ সংঘাত ও অস্থিরতায় জর্জরিত।”
তিনি দাবি করেন, “এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ হেযবুত তওহীদের আহ্বান করা জীবনব্যবস্থা।”
চট্টগ্রামের ১৩টি সাংগঠনিক ইউনিটের সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “মানুষের দোরগোড়ায় মুক্তির বার্তা পৌঁছে দিন।”
হেযবুত তওহীদের গণমাধ্যম ও যোগাযোগ সম্পাদক শারমিন সুলতানা চৈতি বলেন,“দেশে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে মা সন্তানকে চিরকুট লিখে ফেলে রেখে যাচ্ছেন—এ দুঃখজনক বাস্তবতা থেকে উত্তরণে সবাইকে মাঠে কাজ করতে হবে।”
এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—চট্টগ্রাম আঞ্চলিক আমির মো. সেলিম হোসেন, বিভাগীয় নারী সম্পাদক জোবাইদা আক্তার বেবি, জেলা সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম বোরহান, জেলা নারী সম্পাদক আমতুল্লাহ বিনতে নজরুলসহ আরও নেতারা।
জোরারগঞ্জ থানা আমির এম জসিম উদ্দিন ভুঁইয়ার সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন—আনোয়ারা থানা আমির মো. দেলোয়ার হোসেন, ইপিজেড থানা আমির মো. ফারুক হোসেন,পতেঙ্গা থানা আমির মো. রিয়াজ খান, কোতোয়ালি থানা আমির মো. বেল্লাল হোসেন,মিরসরাই থানা আমির মো. মহিবুল্লাহ রহমান,সীতাকুণ্ড থানা আমির আকলিমা আক্তার,রাঙ্গামাটি থানা আমির হাবিবুর রহমান,পাহাড়তলী থানা আমির ইকবাল হোসেন,ডাবলমুরিং ও খুলশী থানা আমির মো. ফরহাদ হোসেন
বক্তব্য শেষে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে সাধারণ কর্মীদের পরিচয়পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
আর এইচ/
