বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) আসন্ন আসরের জন্য অবশেষে পাঁচটি ফ্র্যাঞ্চাইজি চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। পাঁচ বছরের জন্য অনুমোদিত এই দলগুলো হলো— টগি স্পোর্টস (রংপুর), ট্রায়াংগল সার্ভিসেস (চট্টগ্রাম), চ্যাম্পিয়ান স্পোর্টস (ঢাকা), নাবিল গ্রুপ (রাজশাহী) এবং ক্রিকেট উইথ সামি (সিলেট)।
তবে দলগুলোর নাম এখনো চূড়ান্ত নয়। বিসিবি জানিয়েছে, খুব শিগগিরই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের নাম ঘোষণা করা হবে।
প্রাথমিকভাবে মোট ১১টি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করলেও, শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় এবং আর্থিক ও ব্যবস্থাপনাগত বিশ্লেষণের পর শেষ পর্যন্ত পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকেই নির্বাচিত করা হয়েছে। বাদ পড়া তিনটি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে ‘লেটার অব ইন্টেন্ট’-এর শর্ত অনুযায়ী ২ কোটি টাকা জমা দিতে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে আরও তিনটি প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেওয়া হয়।
বিসিবি সূত্র জানায়, চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে—আর্থিক সক্ষমতা ও শক্তি, ম্যানেজমেন্টের দক্ষতা ও অনুপ্রেরণা, ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা।
আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ে ব্যাংক ও নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের নথি পরীক্ষা করা হয়েছে। এছাড়া দুর্নীতি দমন ইউনিটের চেয়ারম্যান অ্যালেক্স মার্শালের নেতৃত্বে ল ফার্ম ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে ক্লিয়ারেন্স নেওয়া হয়েছে।
আগামী ১৯ ডিসেম্বর থেকে ১৬ জানুয়ারির মধ্যে বিপিএল আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। ফেব্রুয়ারির শুরুতেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থাকায় জাতীয় দলের প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে এই সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্লেয়ার ড্রাফট অনুষ্ঠিত হবে ১৭ নভেম্বর। ড্রাফটে অংশ নিতে হলে প্রতিটি দলকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে ১০ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি জমা দিতে হবে। কোনো দল ব্যর্থ হলে তাদের প্রাথমিক ২ কোটি টাকার ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং তারা ড্রাফটে অংশ নিতে পারবে না।
বিসিবি জানিয়েছে, এই ব্যাংক গ্যারান্টি মূলত নিরাপত্তা হিসেবে রাখা হয়েছে, যাতে কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি খেলোয়াড়, হোটেল বা অন্যান্য পার্টির পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হলে বিসিবি সেখান থেকে অর্থ পরিশোধ করতে পারে।
দুর্নীতিতে অভিযুক্ত খেলোয়াড়দের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও, বিসিবি জানিয়েছে, প্রক্রিয়া শেষে এ বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হবে।
বিসিবি আশা করছে, পাঁচ দলের এই প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হবে এবং টুর্নামেন্টের মান বৃদ্ধি পাবে। এবারের আসরটি ডাবল লেগ ফরম্যাটে আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
আর এইচ/
