গাজার অবরুদ্ধ মানুষের পাশে দাঁড়াতে ভূমধ্যসাগর দিয়ে যাত্রাকালে আটক হওয়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী ও নাগরিক অধিকারকর্মী শহিদুল আলম ইসরায়েলি কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরেছেন। শনিবার ভোর ৪টা ৫৫ মিনিটে তাঁকে বহনকারী টার্কিশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ দিয়ে ভোর ৫টার পর তিনি বের হলে তাঁকে স্বাগত জানান স্ত্রী ও মানবাধিকারকর্মী রেহনুমা আহমেদ, জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব, আলোকচিত্রী ও গবেষক মুনেম ওয়াসিফসহ সহকর্মীরা।
বিমানবন্দরে পৌঁছে শহিদুল আলম বলেন,“বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা আমাকে ফিরে আসার সুযোগ করে দিয়েছে। মনে রাখতে হবে গাজার মানুষ এখনও মুক্ত হয়নি, এখনও নির্যাতন চলছে। যতক্ষণ না গাজার মানুষ স্বাধীন হয়, আমাদের কাজ শেষ নয়।”
দৃকের ফেসবুক পেজে প্রচারিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন,“সারা পৃথিবী থেকে বাংলাদেশিরা যেভাবে সাড়া দিয়েছেন, দোয়া করেছেন, বাংলাদেশ সরকার ও টার্কিশ সরকার যেভাবে সাহায্য করেছে—সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি যেতে পেরেছি, অনেকে পারেনি। ফিলিস্তিন স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবে।”
ইসরায়েলি কারাবন্দিত্ব থেকে মুক্তির পর শুক্রবার দুপুরে তিনি প্রথমে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে পৌঁছান। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. মিজানুর রহমান। ইস্তাম্বুল সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।
শহিদুল আলম ছিলেন ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের সবচেয়ে বড় নৌযান ‘দ্য কনশায়েন্স’–এর যাত্রী। ওই বহরে বিভিন্ন দেশের ১৪৪ জন সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, চিকিৎসক ও সমাজকর্মী ছিলেন। ইসরায়েলি বাহিনী বুধবার হামলা চালিয়ে তাঁদের আটক করে।
ওই দলে থাকা অস্ট্রেলীয় নারী ক্যাপ্টেন মেডেলেইন হাবিবকে এখনো মরুভূমির একটি কারাগারে রাখা হয়েছে। আটকের পর শহিদুল আলমসহ অনেকে কুখ্যাত কেৎজিয়েত কারাগারে নেওয়া হয়।
ইসরায়েলে আটকের পর থেকেই বাংলাদেশ সরকার মিসর, জর্ডান ও তুরস্কের মাধ্যমে তাঁর মুক্তির জন্য তৎপরতা চালায়। তাঁর মুক্তিতে ভূমিকা রাখার জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
ইসরায়েলের নৌ অবরোধ ভেঙে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে “ফ্রিডম ফ্লোটিলা” এবং ‘থাউজেন্ড ম্যাডলিনস টু গাজা’ উদ্যোগের নয়টি নৌযান গাজামুখী যাত্রা শুরু করে। সেসব নৌযানে বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, চিকিৎসক ও মানবাধিকারকর্মীরা যোগ দেন। তাঁদের মধ্যেই ছিলেন শহিদুল আলম।
আর এইচ/
