বোয়ালখালীতে শতাব্দীপ্রাচীন বোধি বৃক্ষে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) ভোর ৪-৫ টার দিকে উপজেলার শ্রীপুর-খরন্দ্বীপ ইউনিয়নের গোলাককানুন বাজার এলাকার জ্যৈষ্ঠপুরা কেন্দ্রীয় বৈশালী বিহার আওতাধীন ঐতিহ্যবাহী পূণ্যতীর্থ জ্যৈষ্ঠপুরা মহাবোধি মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, রাত সাড়ে ১২ টার সময় প্রবারণা উৎসব শেষ করে সবাই যাঁর যাঁর ঘরে চলে যায়। ভোরে কে বা কাঁহারা বোধি বৃক্ষের কাপড় ও মন্দিরে থাকা বুদ্ধমূর্তির গায়ে জড়ানো চীবরে আগুন ধরিয়ে দেয়।
বিহারের পাশে থাকা চায়ের দোকানদার দোকান খুলতে এসে আগুন দেখতে পান। তিনি খবর দিলে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি বোধি বৃক্ষের কাপড় ও বুদ্ধমূর্তির চীবর পুড়ে গেছে।’
বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন, বোয়ালখালী থানা ও সেনাবাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডারকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বৈশালী বিহার পরিচালনা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজু বড়ুয়া।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রহমত উল্লাহ, সেনাবাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডার মো.রাসেল ও থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মো লুৎফর রহমানসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.রহমত উল্লাহ বলেন, এ ঘটনা যাঁরাই করুক না কেন ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বোয়ালখালী সম্মিলিত বৌদ্ধ পরিষদের সভাপতি প্রকৌশলী জয়সেন বড়ুয়া বলেন, মন্দিরের ভিতর বুদ্ধ মূর্তির গায়ে জড়ানো চীবর (কাপড়) আগুনে পুড়ে দিয়ে মূর্তির কপালে ১টা স্বর্নের টিপ ছিল সেটা নিয়ে গেছে। বোধিবৃক্ষের চীবরটা পুড়ে দিছে। প্রশাসনের লোকজন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন। সুস্থ তদন্তের মাধ্যমে তাদেরকে আইনের আওতায় আনার আহবান জানান তিনি।
স্থানীয় প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হাসান চৌধুরী বলেন, ‘আমরা রাতে প্রবরণা পূর্ণিমার অনুষ্ঠানে ছিলাম।বর্তমানে ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ধারণা করছি, ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে।’
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন, প্রবারণার উৎসব চলাকালীন সময়ে পুলিশ টহলে ছিল। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আর এইচ/
