ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) সার্বিক সহযোগিতায় আগারগাঁও থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত মেট্রোরেল পিলারে অঙ্কিত গ্রাফিতি ‘জুলাই আর্ট ওয়ার্ক’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
শনিবার (২ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সভাপতিত্ব করেন ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসিফ মাহমুদ সজীব বলেন, ‘এই গ্রাফিতিগুলো আমাদেরকে আওয়ামী স্বৈরশাসনের ভয়াল দিনগুলো এবং জনগণের সাহসী প্রতিরোধের ইতিহাস বারবার স্মরণ করিয়ে দেবে। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে লক্ষ্যে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
সভাপতির বক্তব্যে ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ ইস্যুতে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার বিষয়টি মাথায় রেখেই এই গ্রাফিতি কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। গত ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের উত্থান এবং তার পতনের ইতিহাস তুলে ধরাই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। গত এক বছরে অনেক রং ফিকে হয়ে গেলেও জুলাইয়ের চেতনা আজও অমলিন।’
‘দেয়ালের ভাষা: স্মৃতি, প্রতিরোধ ও জনতার ইতিহাস’—এই প্রতিপাদ্যে অঙ্কিত ‘জুলাই আর্ট ওয়ার্ক’-এ ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান এবং ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রতিরোধের শক্তিশালী চিত্রমালা তুলে ধরা হয়েছে।
দেয়ালচিত্রগুলোর মাধ্যমে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক দমন-পীড়নের নানা অধ্যায় এবং ২০২৪ সালের ৩৬ দিনের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন দৃশ্য, মিছিল, সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ও আত্মত্যাগ জীবন্ত হয়ে উঠেছে রং ও রেখার প্রতিটি আঁচড়ে।
গুম, হত্যা, ভোট ডাকাতি, শিক্ষা ব্যবস্থার ধ্বংস ও নাগরিক অধিকারের হরণ—এসব বিষয়কে প্রতিবিম্বিত করেছে গ্রাফিতি। শহিদ আবরার, ফেলানির মুখাবয়ব সেই স্মৃতিকে রাজনৈতিক অস্ত্রে রূপ দিয়েছে।
ছাত্রজনতা ও নাগরিক সমাজ নিজেদের শিল্পী, লেখক ও ইতিহাসনির্মাতা হিসেবে প্রকাশ করেছে এই দেয়ালে। এটি কেবল একটি গ্রাফিতি প্রদর্শনী নয়—একটি সামাজিক, রাজনৈতিক এবং নান্দনিক আন্দোলনের প্রামাণ্য দলিল।
আর এইচ/
