আনোয়ারা উপজেলার বারশত ইউনিয়নে বাসা ভাড়া ও আর্থিক অনটনের চাপে সয়তে না পেরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে মোহাম্মদ ইরফান (২৮) নামে এক যুবকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। তবে এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন নিহতের ভাই।
বুধবার ( ৭ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে নয়টার দিকে ইউনিয়নের বোয়ালিয়া জাফরের ভাড়া ঘর এ ঘটনা ঘটে। রাতেই ঘটনার খবর পেয়ে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ।
নিহত ইরফান উপজেলার ১১নং জুইঁদন্ডী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন এর পুত্র।
এটিকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে নিহত ইরফানের ভাই জয়নাল আবেদীন ইমরান বলেন , আমার ভাইকে তারা কিছু দিন আগেও মেরে রাস্তার পাশে ফেলে রেখেছিলো । আমরা হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে সুস্থ করি । আমার ভাই তার বৌ ও শশুর বাড়ীর লোকজন মিলে আগে নির্মমভাবে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে আনোয়ারা থানার এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক ভাবে জানতে পারি সে বেকার ছিলো । যখন যা পেতো তাই কাজ করতো । ঘটনার দিন শাহানুরকে(স্ত্রী) মারধর করায় একটি রুমে তাকে আটকে রাখা হয় ইরফানকে। পরে রুমের দরজা খুলে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আনা হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করি । বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
জানা যায়, ছয় বছর আগে ইরফানের সাথে বটতলী ৪ নং ওয়ার্ড হাজী আরভান আলীর বাড়ির খায়ের আহমেদ এর মেয়ে শাহানুর আক্তার (২৫) এর সাথে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয় । গত একবছর ধরে বারশত ইউনিয়নের বোয়ালিয়া জাফর কলিনিতে ভাড়া থাকতো ।
ইরফানের স্ত্রী শাহানুর আক্তার আক্তার বলেন , বিয়ের পর থেকে ইরফান তেমন কোন কাজ করতো না যখন যে কাজ পেতো তা করতো। অভাব অনটন এর সংসার ছিলো । বাসা ভাড়া বাকি ছিলো ৬ হাজার মত । বিভিন্ন সময় বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য মারধর করতো । গতকাল রাতেও মারধর করে । এর পর রুমে মধ্যে থেকে আমার কাপড় দিয়ে ফ্যানের সাথে ফাঁস খাই।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আনোয়ারা থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন , লাশ পুলিশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
