যুক্তরাষ্ট্র যেসব দেশে গণতন্ত্রের কথা বলে হস্তক্ষেপ করেছে, সেসব দেশের পরিণতি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ।
বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে দেশটির ভিসানীতির অন্তরালে কোনো ষড়যন্ত্রের আভাস পাওয়া গেলে বাংলার মানুষ তা বরদাশত করবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
আজ রোববার রাঙামাটি আওয়ামী লীগের তৃণমূল প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা ক্ষমতাসীন দলের নেতা।
‘একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের জন্য আলাদা ভিসা নীতি সম্মানজনক নয়’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, কার স্বার্থে এবং কোন যুক্তিতে একটি স্বাধীন দেশকে অপমানিত করলেন তা বোধগম্য নয়।
বাংলাদেশের সুষ্ঠু নির্বাচনে বাঁধা দিলে দায়ীরা এবং তার পরিবারের সদস্যরা ভিসা পাবে না বলে যুক্তরাষ্ট্র গত ২৪ মে যে ঘোষণা দিয়েছিল, তা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে বলে শুক্রবার জানিয়েছে দেশটি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের কয়েকজন নেতা এর আওতায় আছেন বলেও জানানো হয়েছে।
হানিফ বলেন, আমেরিকা গণতন্ত্রের ছবক দেয়, মানবাধিকারের কথা বলেন। কিন্তু এই ধরনের কথা আমাদের শঙ্কা লাগে।
কারণ তারা ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া ও মিশরেও একই ধরনের কথা বলে সরকার উৎখাত করেছে। সেসব দেশ আজ যুদ্ধবিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। তাই বাংলাদেশেও নির্বাচন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার এসব কথা বলে অন্য কোনো ষড়যন্ত্র হলে আমরা তা প্রতিহত করব।
বিএনপির আন্দোলনে জনসমর্থন নেই দাবি করে তিনি বলেন, তারা নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে উঠেপড়ে লেগেছে। জনগণ তাদেরকে প্রত্যাঘাত করেছে।
তারা জানে জনগণের ভোটে তাদের নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ নেই। তাই তারা বিদেশি প্রভুর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সরকার পতনের স্বপ্ন দেখছে।
রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদারের মনোনয়ন নিয়ে ‘দুচিন্তার কিছু নেই’ বলেও জানান আওয়ামী লীগ নেতা। বলেন, “আমার নিজে নমিনেশন নিয়ে আমি শঙ্কায়।
রাঙামাটিতে দীপংকর তালুকদারের বিকল্প কেউ নেই। এমনকি দীপংকর তালুকদারের বিকল্প নিয়ে প্রধানমন্ত্রীও ভাবেন, এমন কিছু কখনো বলতে শুনিনি। সুতরাং আপনারা নিশ্চিন্ত মনে বাড়ি যেতে পারেন।
প্রতিনিধি সম্মেলনকে ঘিরে তৃণমূল নেতাকর্মীরা সকাল থেকে দলে দলে প্রবেশ করেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ইন্সটিটিউট প্রাঙ্গণে। জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন অতিথি ও দশটি উপজেলার নেতারা।
