ইউক্রেইনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভের তিনটি শিল্প গুদামে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে ওই গুদামগুলোতে হামলা হলে আগুন ধরে যায়, পরে দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
একই দিনে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খেরসনে রুশ বাহিনীর গোলাবর্ষণে এক পুলিশ সদস্য নিহত এবং এক ট্রলিবাসের বেসামরিক দুই যাত্রী আহত হন বলে জানান নগরীর সামরিক প্রশাসনের প্রধান।
ইউক্রেইনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহোর ক্লেমানকো বলেন, ভোরে খেরসনে রাশিয়ার কামানের গোলায় একজন ৪৯ বছর বয়সী পুলিশ সার্জেন্ট নিহত হন।
দেশটির জরুরি পরিষেবা বিভাগ লভিভে হামলার যেসব ছবি প্রকাশ করেছে, সেগুলোতে জ্বলন্ত গুদামগুলোর উপর রাতের আকাশ আলো করে রাখা বিশাল অগ্নিশিখা দেখা গেছে।
লভিভের মেয়র আন্দ্রি সদোভাই জানান, ওই গুদামগুলোতে কাজ করতেন এমন এক ব্যক্তির মৃতদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে পাওয়া গেছে।
গুদামগুলোতে জানালা, গৃহস্থালির কাজ ব্যবহৃত রাসায়নিক ও মানবিক ত্রাণ সহায়তা রাখা ছিল বলে দাবি করেছেন তিনি।
আঞ্চলিক গভর্নর ম্যাক্সিম কোজেটস্কি টেলিগ্রাম অ্যাপে বলেছেন, “আমি জোর দিয়ে বলতে চাই এগুলো সাধারণ শিল্প গুদাম। এগুলোতে সামরিক কোনো কিছু সংরক্ষণ করা হয়নি।
তিনি জানান, হামলায় রুশ বাহিনী ১৮টি ড্রোন ব্যবহার করে, যার মধ্যে ১৫টি গুলি করে নামানো হয়, লভিভে সরাসরি হানা দিয়েছিল সাতটি ড্রোন।
ইউক্রেইনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাতে ইউক্রেইনে হামলা চালাতে রাশিয়ার মোট ৩০টি ড্রোন পাঠিয়েছিল আর একটি ইসকান্দর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করেছে। ড্রোনগুলোর মধ্যে ২৭টিকে গুলি করে ভূপাতিত করা হয় বলে দাবি করেছে তারা।
ইউক্রেইনীয় কর্তৃপক্ষের এসব ভাষ্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মস্কোর দিকে থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, বার্তা সংস্থা রয়টার্সও স্বতন্ত্রভাবে এসব ভাষ্য যাচাই করে দেখতে পারেনি।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেইনে পূর্ণমাত্রায় আক্রমণ শুরু করার পর থেকে রাশিয়া দেশটিতে ঘন ঘন আকাশ হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে তারা বেসামরিক কোনো লক্ষ্যে হামলা চালানো কথা অস্বীকার করে আসছে।
