চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের ৩১নং আলকরণ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন আজ শনিবার (১৭ জুন) সকালে হোটেল সৈকতে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল মোতালেব চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইছহাকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়।
৩১নং আলকরণ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন উদ্বোধন করেন সদরঘাট থানা আওয়ামী লীগের সমন্বয়ক, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব মশিউর রহমান চৌধুরী।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী।
প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি।
সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে রুহুল আমিন তপনকে সভাপতি, মোঃ মোঃ ইব্রাহিমকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ ঘোষণা করা হয়।
প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী বলেছেন, আমেরিকা সাদ্দাম হোসেন, গাদ্দাফী, পেট্রিক লুমাম্বা ও নক্রুমার মতই শেখ হাসিনাকে হত্যার টার্গেট করেছে।
কেননা শেখ হাসিনা সারা বিশ্বে আগ্রাসন বিরোধী একজন মানবতাবাদি নেত্রী। একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনি সারা বিশ্বের শোষিত ও নিপীড়িত মানুষের মুক্তির অগ্রদূত হিসেবে আর্বিভূত হয়েছেন। এটা কোন পরাক্রমশালী দেশের সহ্যের কথা নয়।
তারা অনৈতিকভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায় এবং তাদের এদেশীয় এজেন্টগুলোকে বাংলাদেশকে একটি অস্থিতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত করার নির্দেশ দিয়েছে। একটি স্বাধীন দেশের মানুষ হিসেবে আমরা এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারি না।
তিনি আরো বলেন, আমরা সকল দল ও মতের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু আন্দোলনের নামে অরাজকতা, নাশকতা কিছুতে সহ্য করা যায় না। তারা চট্টগ্রামে অরাজকতা ও নাশকতার যে মহড়া ২-১ দিন যে নাশকতা ও অরাজকতা সৃষ্টি করেছে তা সহ্যের সীমানা লঙ্ঘন করেছে। প্রতিটি স্তরের নেতাকর্মীকে জনগণকে সাথে নিয়ে এই অপশক্তিকে মোকাবেলার সময় এসেছে।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি জামাত বিশেষ সুবিধা অর্জনের জন্য কথিত ও মৃত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধোয়া তুলছে।
আদালতের রায় এবং সাংবিধানিকভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবী পূরণের কোন সুযোগ নেই। এটা যদি করতেই হয় তাহলে বিএনপি জামাতকে আগে সংসদে আসতে হবে এবং পার্লামেন্টে তাদের দাবীর পক্ষে কথা বলতে হবে।
তিনি আরো বলেন, একমাত্র পাকিস্তান ছাড়া পৃথিবীর কোথাও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অস্তিত্ব নেই। আমরা বলতে চাই জাতীয় নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে। এই নিয়ে কোন মহল বা কোন গোষ্ঠি যদি ঘোলা পানিতে মাছ স্বীকার করতে চায় তাহলে তাদের উদ্দেশ্য সফল হবে না এবং আমরাও জনগণকে সাথে নিয়ে তাদের প্রতিহত করবো।
তিনি নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন কথিত আন্দোলনের নামে যারা নাশকতা ও অরাজকতা সৃষ্টিতে জড়িত হয়ে পড়েছে তাদের এলাকাভিত্তিক নামের তালিকা তৈরি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে।
এজন্য এলাকার মুরুব্বী, মসজিদের ঈমাম, পেশাজীবী ও সামাজিক নেতৃবৃন্দদের সাথে নিয়ে সর্বজনীন একটি গণকমিটি গঠন করতে হবে।
বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি বলেছেন, বিএনপি জামাত কখনো বাংলাদেশ চায় নি এবং এখনো চায় না। তারা বিদেশে লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে তাদের পক্ষে লবিস্ট নিয়োগ করেছে।
তাদের এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের উৎস কোথায় তা জাতি জানতে চায়। তিনি আরো বলেন, কোন জনবিচ্ছিন্ন শক্তি জনগণের মঙ্গল ও কল্যাণ সাধন করতে পারে না। এটা বার বার প্রমাণিত হয়েছে।
বিএনপি জামাত যখনই ক্ষমতায় গেছে তখনই তারা জনগণকে জিম্মি করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট করে। আর আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় যায় তখন জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটায়। এই ধারাবাহিতকতা রক্ষা করার জন্য আওয়ামী লীগের বিজয় ছাড়া আর কোন রক্ষা নেই।
সম্মেলন বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব নঈম উদ্দীন চৌধুরী, এড. ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী, বাবুল, স্বাস্থ্য ও গণসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. ফয়সল ইকবাল চৌধুরী, সদরঘাট থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর চৌধুরী সিইনসি, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোঃ সালাউদ্দিন, যুবলীগ মহানগরের সভাপতি মাহবুবুল হক সুমন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোঃ শওকত হোসেন, কাউন্সিলর আব্দুস সালাম মাসুম, রুহুল আমিন তপন, শ্রীমতি নীলু নাগ, ইউনিট আওয়ামী লীগের নুরুল কবির, জয়নাল আবেদীন, ফজল হক।
সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য আলহাজ্ব সফর আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনান, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম ফারুক, আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক চন্দন ধর, ত্রাণ সমাজকল্যাণ সম্পাদক হাজী মোঃ হোসেন, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক দিদারুল আলম চৌধুরী, মহিলা সম্পাদিকা জোবাইরা নার্গিস খান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবু তাহের, নির্বাহী সদস্য আবুল মনছুর, সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার, ড. নিছার উদ্দীন আহমেদ মঞ্জু, মোর্শেদ আক্তার চৌধুরী প্রমুখ। শোক প্রস্তাব পেশ করেন মাসুদুল আলম বাবুল।
