বাংলা গানের ভুবনে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম কনকচাঁপা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সরব তিনি। বিভিন্ন সময় নানান বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। এবার বহু বছর আগে সুইজারল্যান্ড ভ্রমণের স্মৃতিচারণ করলেন গায়িকা।
শনিবার (১৩ আগস্ট) মধ্যরাতে ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে কনকচাঁপা লিখেছেন, সুইজারল্যান্ড আমি একবারই গিয়েছিলাম।
সম্ভবত সেটা ২০০৯ সাল। খুব ছোট ঝটিকা সফর, কিন্তু খুবই সফল ছিল। জাহাঙ্গীর সাঈদ ভাইয়ের আয়োজনে গিয়েছিলাম। এক হলরুম ভর্তি অপূর্ব দর্শক।
দারুণ ভালোবাসায় গান শেষ করে আয়োজকদের একজনের হোটেলে গেলাম। সেখানেই আমরা থাকব দুদিন। সেখানে পৌঁছাতে পৌঁছাতে আমার বিস্ফরিত নয়ন বন্ধই করতে পারছিলাম না। কারণ, আমি এর আগে কাশ্মীর দেখিনি বা এমন দেশে যাইনি। কী অপূর্ব কী অপূর্ব!
তিনি আরও লেখেন, রাতে যতটুকু দেখেছিলাম। কিন্তু সকালে ঘুম ভেঙে আমি সৌন্দর্যে আধপাগল হয়ে গেলাম। হোটেল গেস্টহাউজ, খুব অল্প বোর্ডার। কিছু ঝকঝকে তকতকে কাঠের দোতলা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট। চতুর্দিকে এমন উঁচু পাহাড় যে, তার অর্ধেক মেঘের ভেতর ঢোকানো। অনেক ঠান্ডা কিন্তু রোদও আছে। মেঘ একদম প্রজাপতির মতো নেমে আসে আবার আমাকে ছুঁয়ে তিরতির করে উড়ে চলে যায়। মেঘের ফাঁকে সূর্যের খেলা, সে খেলা দেখে ছবি আঁকতে ইচ্ছে হয়।
পাশেরজনের নির্লিপ্ততায় আমার অস্থির লাগে। তার এমন ভাব যেন পাহাড়ের পাদদেশ তার দাদার! সবসময় এমন ভাব! কী করে পারে! পারুক, তাতে আমি অভ্যস্ত। আমি এই পৃথিবীকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে চাই। বলতে চাই, আলহামদুলিল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ এবং আবারও সুইজারল্যান্ড যেতে চাই।
প্রসঙ্গত, বাংলা সিনেমার গানে কনকচাঁপা একটি অধ্যায়ের নাম। ৩৭ বছর ধরে সংগীতাঙ্গনে সমানতালে কাজ করে যাওয়া এই গায়িকা এ পর্যন্ত চলচ্চিত্রের তিন হাজারেরও বেশি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবনূরের প্রায় প্রতিটি গানেই শোনা যায় কনকচাঁপার কণ্ঠ। প্লে-ব্যাকের পাশাপাশি প্রকাশিত হয়েছে তার ৩৫টি একক গানের অ্যালবাম।
লেখক হিসেবেও কনকচাঁপার খ্যাতি রয়েছে। তিনি ‘স্থবির যাযাবর’ নামে একটি অটোবায়োগ্রাফি লিখেছেন, ২০১১ সালের অমর একুশে বইমেলায় এটি প্রকাশিত হয়। এ ছাড়াও ২০১২ সালে মুখোমুখি যুদ্ধ, মেঘের ডানায় চড়ে (২০১৬), কাঁটা ঘুড়ি (২০১৮), সেই পথে যাও (২০১৯), কাঁটা ঘুড়ি-২ (২০১৯) বইগুলো প্রকাশিত হয়।
ব্যক্তি জীবনে তিনি ১৯৮৪ সালে মিউজিক ডিরেক্টর ও কম্পোজার মইনুল ইসলাম খানের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
