দরিদ্র মা-বাবার স্বপ্ন ছিলো বড় ছেলেকে মাদ্রাসায় পড়িয়ে আলেম বানাবেন। সেই স্বপ্নকে বাস্তব করতে ছেলেকে ভর্তি করানো হয় মাদ্রাসায়। কিন্তু ছেলেটা ছিলো একটু চঞ্চল। পড়াশোনায় মন বসত না তার। মাঝে মাঝেই মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যেত, আর পরিবার খুঁজে এনে আবার মাদ্রাসায় দিয়ে আসত।
সর্বশেষ আড়াই বছর আগে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যায় সে। তারপর আর ফিরে আসেনি। পরিবারের খোঁজাখুঁজির পরও খুঁজে না পেয়ে হাল ছেড়ে দেন তারা।
আরো পড়ুন; আনোয়ারায় পুকুরে ডুবে দোকান কর্মচারীর মৃত্যু, পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা
সোমবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে এর সামনে দাঁড়িয়ে কান্নাজড়ানো কণ্ঠে এই কথা বলছিলেন ১৭ বছর বয়সী ইয়াসির আরাফাতের বাবা মনির আহমদ। কক্সবাজার জেলার উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১ এর বাসিন্দা তিনি।
তিনি বলেন, “ওর মা অসুস্থ, আমি দিনমজুরের কাজ করি। সংসার চালাই কোনো রকমে। ভেবেছিলাম ছেলে বড় হয়েছে, কোথাও খেয়ে-পরে বেঁচে থাকবে। হয়তো একদিন ফিরে আসবে… কিন্তু আর ফিরলো না, লাশ হয়ে ফিরলো আমার কোলে।”মৃতুর পর জানতে পারলাম , সে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সড়কের পাশে একটি হোটেলে কাজ করতো।
এর আগে গত রোববার সকাল ১১টার দিকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুকুরে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে মৃত্যু হয় মোহাম্মদ ইয়াসিরের (১৯)।সকাল থেকে নিখোঁজ থাকার পর দুপুর ১টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা তার মরদেহ উদ্ধার করে।
মরিয়ম হোটেলের মালিক জাফর সওদাগর বলেন, “প্রতিদিনের মতো গোসল করতে গিয়েছিল ইয়াসির। কিন্তু অনেকক্ষণেও ফিরে না আসায় খোঁজ নিতে গিয়ে দেখি, পুকুরঘাটে তার কাপড়, সেন্ডেল, সাবান পড়ে আছে। তখন সন্দেহ হলে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেই। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।”
তিনি জানান, ইয়াসির প্রায় আড়াই বছর ধরে ওই হোটেলে কর্মচারী হিসেবে কাজ করছিল।
আনোয়ারা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ইনচার্জ মুজিবুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।”
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হাসান জানান, সকালে খবর পেয়ে তার বাবা আসে থানায় । বিকালে পোস্টমর্টেম শেষে তাদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। এ বিষয়ে থানায় অপমৃত্যু মামলা রুজু হয়েছে।”
আর এইচ/
