যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের রাজধানী তেহরানের বাসিন্দাদের শহর ছেড়ে যেতে আহ্বান জানানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই শহরে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। ইসরায়েল-ইরানের চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে এই আহ্বান নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
কানাডায় জি-৭ সম্মেলনে অংশগ্রহণের সময় ট্রাম্প বলেন, “তেহরানের সবাইকে এখনই শহর ছেড়ে যাওয়া উচিত।” একইসঙ্গে তিনি তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়ে ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরির ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।খবর বিবিসি
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনার কারণে ট্রাম্প নির্ধারিত সময়ের আগেই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ। যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি বৈঠক আহ্বান করেন। তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলের চলমান অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িত নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য ইরানকে কূটনৈতিক চাপের মুখে ফেলতে এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সমঝোতায় বাধ্য করার একটি কৌশল হতে পারে।
এদিকে, ইসরায়েলি বাহিনী সোমবার রাতে তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়েছে। লক্ষ্যবস্তু ছিল রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবন ও পশ্চিমাঞ্চলের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি। পাল্টা জবাবে ইরানও তেলআভিভ ও জেরুজালেমসহ ইসরায়েলের বড় শহরগুলোতে মিসাইল হামলা অব্যাহত রেখেছে।
টানা হামলা আর ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির প্রেক্ষিতে তেহরানের হাজারো বাসিন্দা সোমবার দুপুর থেকেই শহর ছাড়তে শুরু করেছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট।
চীনা দূতাবাসও ইসরায়েলে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের ‘অবিলম্বে’ দেশটি ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, “বর্তমান পরিস্থিতিতে জর্ডান সীমান্ত দিয়ে ইসরায়েল ত্যাগ করাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।”
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইরান-ইসরায়েল সংঘাত আরও জটিল রূপ নিতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিরাপত্তা হুমকি বাড়াবে।
আর এইচ/;
