শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬

ফেনীর কাল উত্তরণের অগ্রযাত্রায় এক আলোকবর্তিকা আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম

সরকারি উন্নয়ন বলতে সাধারণত আমরা বুঝি সরকারি কোন সংস্থা কিংবা রাজনীতির মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিত্ব করা কোন জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা উন্নয়ন। জনপ্রতিনিধি না হয়েও জনগণের কথা ভাবা, জনগণের জীবনমানের উন্নয়নের কথা ভাবা আর সে ভাবনার পরিপ্রেক্ষিতে জনগণের জন্য কাজ করাটা খুব কমই দেখা যায় আজকের এই পুঁজিবাদী সমাজে। হাতেগোনা দু’চারটা উদাহরণ ছাড়া খুবই দুষ্প্রাপ্য সে চিত্র। সে জায়গায় ব্যতিক্রমী একটা নাম আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম। ব্যতিক্রম বলার কারণও সুস্পষ্ট। 

স্বাধীনতার পূর্বেই ফেনীর পরশুরামের এক সম্ভান্ত্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শিক্ষাদীক্ষায় তাঁর এই চৌধুরী বাড়ির নিজস্ব নামজশ ছিল। যার কারণে ছোটবেলা থেকেই তিনি বুঝেছিলেন একমাত্র শিক্ষার মাধ্যমেই একটা সমাজের বিনির্মাণ, একটা সমাজের উন্নয়ন, তথা একটা দেশের উন্নয়ন সম্ভব। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করা আলাউদ্দিন নাসিম নিজ মেধায় এবং যোগ্যতায় বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সফলতার সাথে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বন্দর নগরী চট্টগ্রাম ও দেশের একমাত্র দ্বীপ জেলা ভোলায়৷ 

১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে, প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং আলাউদ্দিন নাসিমকে তার প্রটোকল অফিসার হিসেবে নিয়োগ করেন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা দপ্তরে কাজ করার সুবিধাকে তিনি অনৈতিকভাবে কাজে না লাগিয়ে পারিবারিক মূল্যবোধ এবং মানব সেবার মহান নেশায় ব্রত হয়ে নিজ এলাকা তথা ফেনীর আত্নসামাজিক উন্নয়ন; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসাসহ বহুমাত্রিক উন্নয়নে কাজে লাগান। সেই সময়েই তিনি ৪২ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন পাকা করে পুনঃনির্মাণের অনুমোদন ও তা বাস্তবায়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তিনি সেই সময়ে এমপিওভুক্ত ও রেজিস্ট্রেশন করে দেন। কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন একমাত্র শিক্ষাই পারে একটা সমাজকে বদলে দিতে, একটা শিক্ষিত পরিবার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে নিজেরাই নিজেদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারে।

২০০১ সালে বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার এপিএস থাকাকালীন সময়েও তিনি নিজ এলাকার জন্য কাজ করতে থাকেন। এই সময়েও তিনি ফেনীর প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কথা ভেবে কাজ করে গিয়েছেন নীরবে, নিভৃতে। পরশুরাম সমিতি চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আলাউদ্দিন নাসিম নিজেই কিছুদিন আগেই বলেছিলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে উনার ভাইসহ সবাই কাজের লম্বা লম্বা লিস্ট ধরিয়ে দিতো আর বলতো এই কাজগুলো করে দিতে হবে! উনি বিরক্ত না হয়ে বরং স্বাচ্ছন্দ্যের সাথেই কাজগুলো পাশ করিয়ে দিতেন। এই ব্যাপারগুলো সাধারণ মানুষের জানা উচিত, জানা উচিত তিনি ফেনীর উন্নয়নে কতোটা ভাবেন। ২০০৮ সালে তিনি স্বেচ্ছায় উপ-সচিব থেকে সচিব হওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অবসরে আসেন আর নিজের ব্যবসা ও রাজনীতিতে জোরালোভাবে সক্রিয় হন। এরপর তিনি আগের চেয়ে আরো বেশি সক্রিয় হয়েই নিজ এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে থাকেন। পরশুরাম উপজেলায় নিজ উদ্যোগে’ই প্রতিষ্ঠিত করলেন ‘আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম কলেজ’, ফেনীর প্রথম প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ‘ফেনী বিশ্ববিদ্যালয়’, ‘ধনিকুন্ডা আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম দাখিল মাদরাসা’, ‘পজির উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠাসহ অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদন ও এমপিওভুক্ত করেছেন, অগণিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাকা ভবন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন করিয়ে ভবন নির্মাণ করে দেন। 

সম্প্রতি তিনি পরশুরাম উপজেলায় ‘ডাঃ জাহানারা আরজু চৌধুরী ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন। এটি প্রতিষ্ঠার মূল কারণ ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যাতে আরো দক্ষ হয়ে গড়ে উঠতে পারে। এসব ছাড়াও তিনি সবচাইতে বেশি উদ্যোগী হচ্ছেন তরুণ প্রজন্মকে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে, যাতে করে কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হয়। এই লক্ষ্যে তিনি সরকারি এবং বেসরকারিভাবে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নিচ্ছেন। অপরদিকে আলাউদ্দিন আহমেদ নাসিমের যেই উদ্যোগটি সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে সেটি হলো, ‘শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন’ প্রতিষ্ঠায় সর্বাত্মক ভূমিকা রাখা। প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারিভাবে এই শেখ কামাল আইটি পার্ক প্রতিষ্টিত হলে তরুণ প্রজন্মকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি মিররসরাই- সোনাগাজী তে বঙ্গবন্ধু ইকোনমিক অঞ্চলের মধ্যেও এই কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ ও আইটি খাতের দক্ষ তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানসহ দেশ বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আলাউদ্দিন নাসিমের এই উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে। আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম সবচেতে বেশি যেই বিষয়টা নিয়ে কাজ করবেন বলে জানাচ্ছেন সেটা হলো তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠীতে পরিণত করে কর্মমুখী জনগোষ্ঠীতে রূপান্তরিত করা, যাতে করে তারা পরিবার, এলাকা তথা দেশের সম্পদে পরিণত হয়। এছাড়াও ফেনীতে একটা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে জনমনে যেই গুঞ্জন রয়েছে, সেটির প্রতিষ্ঠাও উনার হাত ধরেই হতে পারে।

এছাড়াও তিনি ফেনীর চিকিৎসা ব্যবস্থায় উন্নতিতে ভূমিকা রাখছেন। নিজ মায়ের নামে পরশুরামে ‘হোসনে আরা বেগম (রানী) চৌধুরী ডায়াবেটিক এন্ড জেনারেল হাসপাতাল’ প্রতিষ্ঠা করেছেন। হাসপাতালে উন্নত মানের চিকিৎসা সামগ্রী প্রদান করেছেন। এছাড়াও করোনাকালের সংকটময় মুহূর্তে বাবা মায়ের নামে প্রতিষ্টিত “সালেহ উদ্দিন ও হোসনে আরা ফাউন্ডেশন’ এর অর্থায়নে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ফেনী ডায়াবেটিস হাসপাতালে তিন শয্যার উন্নত মানের আইসিইউ স্থাপন করেন। ফেনীতে রোগ নির্ণয়ে উন্নত সেবা নিশ্চিতে ফেনী ন্যাশনাল হার্ট ফাইন্ডেশনে ৪০ লাখ টাকা প্রদান করেন। এমন নিঃস্বার্থভাবে নিজ এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করাটা এই সময়টাতে কেবল দূরূহই না, দূর্লভও বলা যায়। সম্প্রতি তিনি ঘোষণা দিয়েছেন ফেনীতে একটা পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করার, এটি হলে স্বাস্থ্যসেবায় আরো সমৃদ্ধ ও উপকৃত হবে এই অঞ্চলের মানুষ। 

ফেনীর যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও জনাব আলাউদ্দিন নাসিম উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। ফেনীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে অসংখ্য রাস্তাঘাট, ব্রীজ, কালভার্ট তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে করে দিয়েছেন। ফেনীর অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মোড় ঘুরাতে তিনি যেই উদ্যোগ নিয়েছেন তা হলো ফেনী-পরশুরাম-বিলোনিয়া চার লেইন সড়ক একনেকে তিনি প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখে অনুমোদন করিয়েছেন, এটি বাস্তবায়ন হলে ফেনীর অর্থনীতির চাকা পাল্টে যাবে, অর্থনৈতিকভাবে আরো বেশি সমৃদ্ধ হবে এই অঞ্চল। ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথ তিনি পুনরায় চালু করার জন্য উদ্যোগ নিচ্ছেন। এছাড়াও ফেনীর বন্যা নিয়ন্ত্রণে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প’ তিনি বাস্তবায়ন করবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছেন। জনপ্রতিনিধি না হয়েও দীর্ঘদিন ধরে যে মহৎ কাজগুলো তিনি করেছেন নিজ এলাকার উন্নয়নে, তাঁর প্রতিদান এবার সম্ভবত তিনি পেতে যাচ্ছেন। ক্রমান্বয়ে ফেনীর মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠা এ মহৎ হৃদয়ের অধিকারী মানুষটিকে মধ্যমণি করেই ফেনীবাসী এবার বিজয়ের আনন্দে শামিল হতে চায়। ইতিহাস বলে, ‘যিনি জনগণের কথা ভাবেন, জনগণও অনুরুপভাবে কেবলই তারা কথা ভাবে।’ অপেক্ষা আর কেবলই কয়েকটা দিনের!

লেখক

ইফতিয়াজুল আলম কাজল 

সাবেক শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল চট্টগ্রামনিউজ.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, মতামত, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি । আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন news@chattogramnews.com ঠিকানায়।

সর্বশেষ

চট্টগ্রামে জুয়েলারি দোকানে ১৩ বছর চাকরি করে ৯৯ ভরি স্বর্ণ সরিয়েছেন কর্মচারী

চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশে একটি জুয়েলারি দোকান থেকে আত্মসাৎ করা...

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন দুজন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন...

শপথ নিলেন নতুন চার মন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার নতুন চারজন সদস্য শপথ...

রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল...

শপথ নিতে বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিতে বঙ্গভবনে প্রবেশ করেছেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি...

মিরসরাইয়ে বিএসআরএমের চালান থেকে চুরি হওয়া ১২ টন রড উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বিএসআরএম কোম্পানির চালান থেকে চুরি হওয়া ১২...

আরও পড়ুন

মিরসরাইয়ে বিএসআরএমের চালান থেকে চুরি হওয়া ১২ টন রড উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বিএসআরএম কোম্পানির চালান থেকে চুরি হওয়া ১২ টন ১০০ কেজি লোহার রড উদ্ধার করেছে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার...

বসুন্ধরা শুভ সংঘের উদ্যোগে লামায় ২০ নারীকে সেলাই মেশিন ও ফলদ চারা বিতরণ

বান্দরবানের লামায় বসুন্ধরা শুভ সংঘের আয়োজনে এবং বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় ২০ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীর মাঝে সেলাই মেশিন ও ফলদ চারা বিতরণ করা হয়েছে।শুক্রবার (২১...

লোহাগাড়ায় পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর করুণ মৃত্যু

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় পুকুরের পানিতে ডুবে আরিয়ান আবেদীন (৮) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।শুক্রবার (২১ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের...

সরইয়ে শতাধিক পয়েন্ট থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন, হুমকিতে এলাকাবাসী

বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক পয়েন্টে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পাচারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের...