মনোনয়ন পত্র বাছাইকালে সীতাকুণ্ড আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী লায়ন মোহাম্মদ ইমরান এবং মিরসরাই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন সহ ১২ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।
ভূয়া ভোটার দেখানোর অভিযোগে চট্টগ্রাম-১,২, ৩, ৪ ও ৫ আসনের ১২ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।
রোববার (৩ ডিসেম্বর) সকালে বিভাগীয় কমিশন কার্যালয় ও জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে মনোনয়ন যাচাই বাছাইয়ের সময় তাদের মনোনয়ন বাতিল হয়।
চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মনোনয়ন যাচাই বাছাইয়ে চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুণ্ড আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী লায়ন মোহম্মদ ইমরানসহ ৪ প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান।
লায়ন মোহম্মদ ইমরান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে যে এক শতাংশ সমর্থক ভোটারের তালিকা দিয়েছেন- তার থেকে ১০ জন ভোটার তথ্য সঠিক কিনা মাঠ পর্যায়ে যাচাইয়ে গেলে সেখানে ৯ জনের তথ্য সঠিক পাওয়া যায়।
একজনের তথ্য গড়মিল পাওয়া যায়। এই কারনে তার মনোযোগ বাতিল করা হয়েছে। তিনি আপীল করতে পারবেন।
একই আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য দিদারুল আলম আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পত্র জমা দেয়ায় তার মনোনয়ন পত্রটিও বাতিল হয়।
যদিও তিনি গত শনিবার নিজেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষনা দিয়েছিলেন। এই আসনে অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের মনোনয়ন পত্র বাতিল হয়। বিএনএফ-এর আখতার হোসেনের মনোনয়ন বাতিল হয়।
এছাড়া চট্টগ্রাম-৫ আসনের ২ স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ শাহজাহান চৌধুরী এবং নাছির হায়দার চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। তাদের বিরুদ্ধেও ভোটার সমর্থকদের ভুল তথ্য দেওয়া অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম ১ ও ২ আসনের মনোনয়ন যাচাই বাছাইয়ে চট্টগ্রাম-১ মিরসরাই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী গিয়াস উদ্দিনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়৷
এছাড়া চট্টগ্রাম-২ ফটিকছড়ি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোহাম্মদ শাহজাহান, গোলাম নওশের আলী, রিয়াজ উদ্দিনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
সকলের মনোনয়ন সঙ্গে জমা দেওয়া ১ শতাংশ সমর্থক ভোটারের তথ্যে গরমিল পাওয়া যায়। একই অভিযোগে অভিযোগে চট্টগ্রাম-৩ আসনের নিজাম উদ্দিন নাছির ও আমিন রসূল নামে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নও বাতির করেন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা।
চট্টগ্রাম-৬ রাউজান আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিউল আজমের মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়েছে।
প্রথম দফা যাচাই বাছাই শেষে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভোটার সমর্থকদের তালিকায় গরমিল থাকায় মনোনয়নগুলো বাতিল করা হয়।
বাতিল হলেও প্রার্থীদের আপিলের সুযোগ রয়েছে। এছাড়া কয়েকজন প্রার্থীর নথিপত্র পর্যাপ্ত না থাকায় তাদের সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামে ১৬ আসনে মোট ১৪৮ জন মনোনয়ন জমা দেয়। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ৩০ নভেম্বর, বাছাই শুরু হয়েছে আজ ৩ ডিসেম্বর থেকে।
আগামীকাল পর্যন্ত চলবে। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল ও শুনানি ৬-১৫ ডিসেম্বর এবং ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ১৮ ডিসেম্বর।
নির্বাচনী প্রচারণা চলবে ১৮ ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত, নির্বাচনে ভোটগ্রহণ ৭ জানুয়ারি।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৬৩ লাখ ৯৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩২ লাখ ৭৯ হাজার ৬২ জন এবং নারী ভোটার ৩০ লাখ ২১ হাজার ৯০২ জন।
