এসএসসিতে প্রত্যাশিত ফলাফল করতে না পেরে ঘরে মায়ের কাছে ‘ক্ষমা চেয়ে চিঠি’ লিখে বের হয়ে যাওয়া অভিমানী কিশোর প্রাচুর্য দাশ মুগ্ধেকে (১৬) দুইদিন পর পাওয়া গেলে লালদিঘির পার্কের বেঞ্চে ঘুমন্ত অবস্থায়।
বুধবার ১২ আগস্ট সকাল সাড়ে ৮টায় লালদীঘি পার্কের বেঞ্চে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা এবং পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে।
মুগ্ধের মা দোদুলচাঁপা দে বলেন, আজ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে লালদীঘি পাড়ে আমার কাকা হাঁটতে গিয়ে মুগ্ধকে দেখতে পান।
পার্কের মানুষ বসার সিঁড়িতে মুগ্ধকে শুয়ে থাকতে দেখে আমাদেরকে খবর দিলে পুলিশসহ সেখানে গিয়ে তাকে উদ্ধার করি।
সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মুগ্ধকে লালদিঘির পার্কের ভেতরে পাওয়া গেছে জানিয়ে মুগ্ধর বাবা বিপ্লব দাশ জানান, আমরা মনে করছি কেউ হয়তো তাকে নিয়ে গিয়েছিল। পত্র-পত্রিকায় চারদিকে খবর বের হওয়ার পর আজকে সকালে তাকে এখানে এনে দিয়েছে। খবর পেয়ে আমরা গিয়ে তাকে ঘরে নিয়ে এসেছি। আমাদের সাথে পুলিশও গিয়েছিল।
বাসায় আসার পর থেকেই সে (মুগ্ধ) ঘুমাচ্ছে। আমরা এখনো তাকে কিছু জিজ্ঞেস করিনি। ছেলেকে যে ফিরে পেয়েছি এটাই আমাদের বড় সান্তনা। আমরা ধারনা করছি ওকে আজকে সকালে কেউ এখানে এনে দিয়ে গেছে। ও ঘুম থেকে উঠলে আস্তে আস্তে জিজ্ঞেস করবো।
এর আগে ১০ আগস্ট সোমবার চলতি বছরের এসএসসির রেজাল্ট প্রকাশের দিন সকাল ৮টার দিকে নগরীর কোতোয়ালী থানার পেছনে পাথরঘাটাস্থ মহিম দাশ রোড এলাকার বাসা থেকে একটি ব্যাগ এবং কিছু বই নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় মুগ্ধ।
যাওয়ার আগে তার মার কাছে একটি চিঠি লিখে যায় অভিমানী যুবক গুগ্ধ। চিঠিতে মুগ্ধ লিখেছেন ‘ মা তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমি তোমার আশা পূরণ করতে পারিনি’।
এরপর থেকে গত দুইদিন তাকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছিলনা।
মুগ্ধের নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোতোয়ালী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। দুই দিন ধরে স্বজনদের পাশাপাশি পুলিশও তার সন্ধানে তৎপর ছিল। অবশেষে গতকাল বুধবার সকালে লালদীঘি পার্কের বেঞ্চে ঘুমন্ত অবস্থায় তার সন্ধান পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে উৎকন্ঠিত পরিবারের মধ্যে।
উল্লেখ্য, প্রাচুর্য দাশ মুগ্ধ বাঁশখালী নাপোড়া শেখেরখীল উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ‘এ’ গ্রেড পেয়ে উর্ত্তীণ হয়েছিল।
মুগ্ধ’র বাবা জানান, মুগ্ধ স্কুলের ফার্স্ট বয় ছিল। দশম শ্রেণিতে ওঠার পর তাকে আমরা শহরে নিয়ে এসেছি ভালো ভাবে কোচিং করার জন্য। ওর ধারনা ছিল সে জিপিএ ৫ পাবে। রেজাল্টে সে ‘এ গ্রেড’ পেয়ে অভিমান করেছিল বলে আমরা ধারনা করছি।
চট্টগ্রামনিউজ/ এসডি/
