দেশে দুর্নীতি বেড়েছে বলে স্বীকার করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তার মতে, বেশি দুর্নীতিতে জড়িত উচ্চবিত্ত শ্রেণি। তারাই বিদেশে অর্থপাচার করে।
শনিবার এফডিসিতে এক ছায়া সংসদ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী মান্নান বলেন, দেশে দুর্নীতি বেড়েছে সন্দেহ নেই। উচ্চবিত্ত পর্যায়ে দুর্নীতি বেশি হচ্ছে। এসব দুর্নীতিবাজরা ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, দুবাইসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচার করছে।
ব্যাংকিং খাতেও এসব প্রভাবশালীরা অর্থ লুটপাটের ঘটনায় জড়িত। দুই একজনকে গ্রেপ্তার করে জেলে নেওয়া হলেও টাকা পাচারের সঙ্গে জড়িত আরো অনেককেই আইনের আওতায় নিয়ে আসা উচিৎ।
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত এই ছায়া সংসদের বিষয় ছিল ‘সর্বজনীন পেনশন স্কীম দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক সুরক্ষায় সহায়ক হবে।’
গত মাস থেকে দেশে সবার জন্য পেনশনের এই সুবিধা চালু হয়েছে দেশে। চার ধরনের সুরক্ষা স্কিমে ৬০ বছর বয়স থেকে পেনশন পাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মোট চার ধরনের স্কিম আছে। যত বেশি বছর টাকা জমানো হবে, পেনশন সুবিধা তত বেশি হবে।
দেশে অবস্থানকারীরা নানা স্কিমে টাকা জমাতে পারবেন মাসে এক হাজার থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা। প্রবাসীরা জমাতে পারবেন ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দেখতে প্রচলিত সঞ্চয় স্কিমের মতো মনে হলেও এটি পেনশন গ্রহীতাদের দীর্ঘমেয়াদী কল্যাণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।
পেনশন তহবিল নিয়ে নেতিবাচক নানা মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, পেনশন খাতে জমাকৃত অর্থ সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে। এর জন্য সরকারের প্রতি আস্থা রাখতে হবে।
যারা সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে নির্বাচনী তহবিল যোগানের উদ্যোগ হিসেবে দেখছে তাদের সেই সমালোচনা যথার্থ নয়।
নিম্ন আয়ের মানুষদের মাসে এক হাজার টাকা জমার যে ব্যবস্থা হয়েছে, তার ৫০০ টাকা দেবে সরকার। তবে সে ক্ষেত্রে সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা পাবে না তারা।
মন্ত্রী বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির ভাতা অব্যহত রেখেই উপকারভোগিরা পেনশন স্কিমে অন্তর্ভূক্ত হতে পারলে আরো ভালো হত। সরকার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।
ছায়া সংসদে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকদের হারিয়ে জিতেছে সরকারি তিতুমীর কলেজের বিতার্কিকরা।
