রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নে এক যুবলীগ নেতার ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে।
আহত মোজাহেরুল ইসলাম তালুকদার(৪১) সরফভাটা ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সহ-সভাপতি। সে একই এলাকার মৃত নুরুল ইসলাম মাষ্টারের ছেলে।
বুধবার (১৯ জুলাই) রাত ৯টার দিকে উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের পশ্চিম সরফভাটা ছনাগাজী স্টেশন এলাকায় দোকানের সামনে এ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পশ্চিম সরফভাটা ছনাগাজী সিএনজি স্টেশন এলাকায় দোকানের সামনে মোজাহেরুলের ওপর অতর্কিতভাবে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে ৮-১০ জনের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ। এ হামলায় গুরুতর আহত ওই যুবলীগ নেতাকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।সেখানে অবস্থা আশংকাজনক হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয় তাকে।
জানতে চাইলে হাসপাতাল থেকে আহত মোজাহেরুল ইসলাম বলেন, “বুধবার রাত ৯টার দিকে মসজিদের মাঠি ভরাটের টাকা দেওয়ার জন্য দোকান থেকে বিকাশে টাকা তোলার সময় অতর্কিতভাবে ৮-১০ জনের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ আমার ওপর হামলা চালিয়েছে”।
আহত মোজাহেরুলের দাবি, তিনি হামলাকারীদের একজনকে চিনতে পেরেছেন। ওই হামলাকারীরা হলেন স্থানীয় মৃত বাদশা মিয়ার ছেলে নুরুল আলম ও তার অনুসারীরা। নুরুল আলম প্রবাসী বিএনপি নেতা ইসমাইলের সেকেন্ড ইন কমান্ড। নুরুল আলম প্রথমে আমাকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে। এরপর তার অনুসারীরাসহ আমাকে এলোপাথাড়ি মারধর শুরু করে। এ সময় তাদের হাতে দেশীয় ধারালো অস্ত্র ছিল। গত সপ্তাহে তাদের দল বিএনপির এক জামায়েত সমাবেশকে পণ্ড করে দেওয়ায় সে রেশ ধরে তাঁরা আমার ওপর সদলবলে এ হামলা চালিয়েছে”।
তবে অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে এলাকায় নুরুল আলমের খোঁজ না মেলায় তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।
এদিকে আহত যুবলীগ নেতাকে দেখতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েছেন উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউনুচ, উপজেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক মো. নিজাম উদ্দিন বাদশাসহ স্থানীয় আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
এছাড়াও এ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন তাঁরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, “আহত অবস্থায় মোজাহেরুল ইসলামকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে”।
সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আহত যুবলীগ নেতার সঙ্গে কথা বলতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েছেন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ।
জানতে চাইলে বিষয়টি নিশ্চিত করে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার উপ-পরিদর্শক মো জুয়েল বলেন, “সন্ত্রাসী হামলার খবর পেয়ে আমরা খুব দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছি। বিষয়টির তদন্ত চলছে। তবে এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলেই তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।
