ঘূর্ণিঝড় মোখার কারণে গৃহবধূ জয়নাব বেগম (১৯) এলেন আশ্রয় কেন্দ্রে। কয়েক ঘণ্টা পর তার শুরু হয় প্রসব-বেদনা। কিন্তু আশপাশে কোনো গাড়ি নেই। খবর পৌঁছে গেল ওসির কাছে। তিনি আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে নিজের গাড়িতে তুলে প্রসূতিকে নিয়ে গেলেন হাসপাতালে। সেখানে জয়নব জন্ম দেন ফুটফুটে এক সন্তানের। ঘূর্ণিঝড় মোখার দিনে জন্মগ্রহণ করায় নবজাতকের নাম রাখা হয় ‘মোখা’।
শনিবার (১৩ মে) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের এয়ার আলী খান আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে প্রসব বেদনা শুরু হয় জয়নবের। তিনি রাজাখালীর বামুলা পাড়া এলাকার মোহাম্মদ আরকানের স্ত্রী।
আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাব শুরু হওয়ার পর শনিবার রাত নয়টার দিকে আশ্রয় কেন্দ্রে যান জয়নব বেগম। রাত দেড়টার দিকে তার প্রসব বেদনা শুরু হয়। এ সময় উপকূলীয় এলাকা রাজাখালীতে কোনো গাড়ি পাওয়া যাচ্ছিল না। বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ওমর হায়দার। তাৎক্ষণিক তিনি রাজাখালীর এয়ার আলী খান উচ্চ বিদ্যালয়ে পৌঁছে প্রসব বেদনায় কাঁতরাতে থাকা জয়নব বেগমকে নিজের গাড়িতে তুলেন। এরপর নিয়ে যান ১০ কিলোমিটার দূরের পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ভোর চারটা ৩০ মিনিটে জয়নব জন্ম দেন এক ফুটফুটে ছেলে সন্তানের।
পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে প্রসূতির বিশেষ যত্ন নেয়া হয়। ওই প্রসূতির নরমাল ডেলিভারি হয়েছে। মা ও ছেলে ভালো আছে।
জয়নব বেগম বলেন, ওসি স্যারকে ধন্যবাদ জানাই। স্যার না হলে আমার কি অবস্থা হতো জানি না। স্যারের কারণে আমি অন্তত আমার ছেলের মুখ দেখতে পেয়েছি।
জয়নবের স্বামী মো. আরকান বলেন, দুর্যোগকালে বিপদে এগিয়ে আসা পুলিশের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
ওসি মোহাম্মদ ওমর হায়দার রাতে আমার স্ত্রীকে হাসপাতালে না নিলে যেকোনও বিপদ হয়ে যেত। ঘূর্ণিঝড় মোখার দিনে জন্ম নেয়ায় আমার ছেলের নাম রাখা হয়েছে ‘মোখা’।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ওমর হায়দার বলেন, সারাদিন ও রাতে মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করতে ও আশ্রয় কেন্দ্রে পৌঁছাতে আমরা কাজ করেছি। রাতে আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন করার সময় খবর পেলাম এয়ার আলী খান আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে এক নারী প্রসব বেদনায় কাঁতরাচ্ছেন। আমি জানতাম রাত দেড়টায় সেখানে কোনো গাড়ি পাওয়া যাবে না। তখন আমি গাড়ি নিয়ে সেখানে পৌঁছে ওই নারীকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে রাত সাড়ে চারটায় সন্তানের জন্ম দেন তিনি।
