দুঃখ কষ্টের পরে, সুখ আসবে। এটাই আল্লাহর ওয়াদা। তবে সুখের সেই সময়টা যেন আমরা নিজেরাই নির্ধারণ করতে না যাই। আল্লাহর কুদরত, সিদ্ধান্ত, কারণ বুঝা সাপেক্ষে আমাদের জ্ঞান বুদ্ধি অতি নগন্য।
কঠিন কষ্ট ও বিপর্যয় সময়কালে কখনই আশা হারাবেন না! ভেঙে পড়বেন না! নিজেকে ধৈর্য্যেশীল বান্দা প্রমাণ করার এটাই তো মোক্ষম সময়।
যুদ্ধের ময়দানে সৈনিকদের আশাহত হওয়া মানায় না, কঠিন থেকে কঠিন সর্ব পরিস্থিতিতে নিজেকে ঠিকিয়ে রাখাটাই একজন সৈনিকের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ। আত্মশক্তিতে প্রাণপণ লড়ে যেতে হয় ধৈর্য্যের সাথে।
জীবন এক যুদ্ধের ময়দান..প্রতিটি প্রাণী সেই যুদ্ধের এক এক জন নির্ভীক সাহসী সৈনিক।কপালের চোখ দু’টি একটু বন্ধ করে…ধ্যানের রাজ্যে বিচরণ করে…অন্তরে মোহব্বতের অনুভূতি দিয়ে…মনের চোখ দিয়ে একবার স্মরণ করে দেখুন তো…?আল্লাহর প্রিয় বান্দাগণের জীবনীর দিকে।
কত হাজার হাজার রকমের যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতির মধ্যে উনারা সময় পার করেছিলেন..কত কষ্ট সয্য করেছিলেন! বছরের পর বছর ধৈর্য্যের মহা পরীক্ষায় জীবন অতিবাহিত করেছিলেন । আল্লাহর খুশীর জন্য উফ শব্দটা পর্যন্ত কখনো মুখে উচ্চারিত করেন নি।
দুঃখ কষ্ট সবার জন্য আজাব হয়ে আসে না…!কারো জন্য, মহা আনন্দের বার্তা হয়ে, অবিশ্বাস্য মহা পুরুষ্কারের সংবাদ নিয়ে ও আসে। হাজারো দুঃখ কষ্ট যন্ত্রণার মাঝে যখন বান্দা অতিষ্ট হয়ে পেরেশান হয়ে উঠে। ধৈর্য্য ধরা সম্ভব না!
তখন হঠাৎ এক অমীয় রহমতের বাণী বান্দার কর্ণকুহরে ভেসে আসে। বান্দার মনে নতুন ভাবে সাহসের বাতি জ্বলিয়ে উঠে, সকালের এক নতুন সূর্যের আশার আলো বান্দার অন্তরে নতুন ভাবে প্রজ্জ্বলিত হয়ে বান্দাকে আবার নতুন ভাবে জাগিয়ে তুলে।
– নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যধারণকারীদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা : বাকারা)
– আল্লাহ ধৈর্যধারণকারীকে ভালোবাসেন।’ (সুরা আলে ইমরান)
বান্দা তখন বলে, আল্লাহকে রাজী করাই তো বান্দার কাজ… নিশ্বাস তো বন্ধ হবেই আজ না হয় কাল। যা হবার হবে… যেমন পরিস্থিতি হোক না কেন…!
উনি যেইভাবে খুশী হবেন… শত কষ্ট সহ্য করে হলেও আমি সেই ভাবেই ধৈর্য্যের সাথে থাকার চেষ্টা করবো।
কারণ আমি সেই সৌভাগ্যবান বান্দাদের মধ্যে নিজের নামটুকু লিখতে চাই, যাদের সাথে আল্লাহ আছেন। যাদেরকে আল্লাহ ভালোবাসেন।
একজন বান্দার জন্য এর চেয়ে বড় পাওয়া সৌভাগ্য আর কি বা হতে পারে?— আলহামদুলিল্লাহ।
