পার্বত্যঞ্চলের পরিস্থিতি ভালো নয় বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তু লারমা। তিনি বলেন, চৈত্র মাস আসলে আমাদের আশা আকাঙ্খা অনেক কিছু মনে জাগে। চৈত্র মাসকে কেন্দ্র করে পার্বত্যঞ্চলের মানুষেরা নতুন আশায় বুক বাধে। যথাযথভাবে চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ফিরে আসবে পাহাড়ের মানুষগুলোর স্বাভাবিক জীবনধারা। নতুন আকাঙ্খা নিয়ে জীবন গড়ে উঠবে।
সোমবার সকাল ১০টায় রাঙ্গামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণে ৩ দিনব্যাপী আয়োজিত বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, সাংক্রান ও বিহু উৎসব উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তু লারমা।
পার্বত্য চট্টগ্রামে ঐতিহ্যবাহী জুম্ম জাতীয় উৎসব উদযাপন ও অধিকার নিশ্চিতকরণে সর্বস্তরে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে ক্ষোভ প্রতিবাদ ও নানা দাবির মধ্য দিয়ে রাঙ্গামাটিতে পালন করা হচ্ছে বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, সাংক্রান ও বিহু উৎসব। তিন দিনের অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করেন শিক্ষক শিশির চাকমা। এসময় পরিবেশিত হয় উদ্বোধনী নৃত্য।
সন্তু লারমা আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের স্থায়ী মানুষের জীবনে কোন সুখ-শান্তি ছিল না। প্রতিনিয়ত নানা দুচিন্তায় বিপর্যস্ত থাকত। প্রাণ খুলে কথা বলতে পারি না। বর্তমানে পাহাড়ে আমাদের কারোর নিরাপত্তা নেই। সামনে রয়েছে অনিশ্চিত ভবিষ্যত। চুক্তি স্বাক্ষরের ২৫ বছর পরও কোন বছর স্মরণীয় উৎসবের দিন উদযাপন করতে পারি নাই। তাই যতই বাধা আসুক, আনন্দের দিনকে অতীতের মতো ভরপুর করার জন্য এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান পাহাড়ের এই নেতা।
এদিকে উৎসবকে ঘিরে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি পৌরসভা গেইট থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়। ঐতিহ্যাবাহী নিজস্ব সংস্কৃতির পোষাকে অংশগ্রহণে শত শত নারী-পুরুষের ঢল নামে। ব্যানার, ফেষ্টুন, প্লেকার্ড হাতে নিয়ে উবোগীতের সাথে সাথে প্রতিবাদমুখর স্লোগানের জয়জোয়ারে মুখরিত হয়ে ওঠে রাজপথ।
মূলত পার্বত্য চট্টগ্রামে পুরো এপ্রিল মাস জুড়ে পাহাড়ের পল্লীগুলোতে চলে এ উৎসবের আমেজ। রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবানে বসবাসরত ১৩টি পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীদের অন্যতম প্রধান সামাজিক উৎসব। চাকমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, মারমা জাতিগোষ্ঠীর মানুষ আলাদা নামে হলেও একযোগে পালন করে এ উৎসব। চাকমারা বিজু, ত্রিপুরারা বৈসু, মারমারা সাংগ্রাই আর তঞ্চঙ্গারা বিষু নামে এ সামাজিক উৎসব পালন করে।
বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, সাংক্রান ও বিহু উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক (অবঃ উপ-সচিব) প্রকৃতি রঞ্জন চাকমার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য সাধুরাম ত্রিপুরা, বিলাইছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান বিরোত্তম তঞ্চঙ্গা, শিক্ষাবিদ অঞ্জুলিকা খীসা, সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সহ-সভাপতি এড. ভবতোষ দেওয়ান, সুশাসনের জন্য নাগরিক রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এম জিসান বখতেয়ার, বাংলাদেশ হিন্দু,বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পলাশ কুসুম চাকমাসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের সুশীল সমাজের বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
