চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় চুরি করে পালাতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার হয়ে মো. ইসহাক (৪৫) নামে এক চোর নিহত হয়েছেন।
গত শুক্রবার দিবাগত রাত সোয়া দুইটার দিকে উপজেলার কাঞ্চনা ইউনিয়নের চার নং ওয়ার্ড মধ্য কাঞ্চনা দত্ত বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইসহাক চন্দনাইশ উপজেলার ধোপাছড়ি ইউনিয়নের পূর্ব ধোপাছড়ি খোকা মেম্বার বাড়ির বদিউর রহমানের ছেলে।
এ ঘটনায় চোরের হামলায় বাড়ির মালিক প্রদীপ দত্ত (৫৫), তার স্ত্রী রুনা দত্ত (৪৫) ও ছেলে শিমুল দত্ত (১৯) আহত হয়েছেন। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে প্রদীপ দত্তের ছোট ভাই কক্সবাজার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এ কর্মরত কনস্টেবল উজ্জ্বল দত্ত বলেন, ঘটনার দিন শুক্রবার রাতে পরিবারের সবাইকে ঘরে রেখে বাইরের দরজায় তালা মেরে বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেন আমার বড় ভাই উজ্জ্বল। অনুষ্ঠান শেষে ঘরে এসে দেখে ঘরের পেছনের দরজা খোলা। দরজার সামনে এক লোক বন্দুক হাতে নিয়ে বসে আছে। ঘরের ভেতর আরো দুজন চোর আলমারি খুলে জিনিসপত্র নিচ্ছে। এ সময় ভাই উজ্জ্বল ঘরে প্রবেশ করতে চাইলে চোরের সাথে তার ধস্তাধস্তি হলে ঘরে থাকা আমার ভাবি ও ভাইপোর ঘুম ভেঙ্গে যায়। তারা চোর চোর বলে চিৎকার শুরু করলে চোরেরা তাদের হাতে থাকা বন্ধুক ও লোহার রড় দিয়ে আমার ভাই, ভাবী ও ভাইপোকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে পালিয়ে যায়। এ সময় দুই চোর পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও এক চোরকে জনতা আটক করে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত চোরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে ওই চোর মারা যান।
উজ্জ্বল দত্ত আরো বলেন, চোরের দল আলমিরা ভেঙ্গে আমার ভাবির আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ কিছু টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াছির আরাফাত বলেন, গণপিটুনিতে নিহত হওয়া চোরের লাশ ময়না তদন্তদের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
