কোরবানির ঈদের আর মাত্র বাকি এক দিন। ঈদ সামনে রেখে ব্যস্ততা বেড়েছে চট্টগ্রামের কামারদের। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দোকানগুলো টুং টাং শব্দে চারদিকে মুখরিত হয়ে উঠছে। নতুন ও পুরোনো চাকু, ছুরি, দা, চাপাতি, বঁটি, হাঁসুয়া ইত্যাদি তৈরি ও শাণ দিচ্ছেন তাঁরা।
শুক্রবার বিকালে চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাট কামারগলি, চকবাজার, মুরাদপুর, কোতোয়ালী, পাথরঘাটাসহ বিভিন্ন এলাকার কামারের দোকান ঘুরে দেখা গেছে কাজের ব্যস্ততা।
কয়লার আগুনে লোহা গরম করে লাল টকটকে হলে হাতুড়ি পিটিয়ে পশু জবাই করার অস্ত্র তৈরি করতে ব্যস্ত কামারেরা। চারদিকে কেবলই লোহা পেটানোর টুংটাং শব্দ।কেউ টানছে হাঁপর, কেউবা দিচ্ছে শান।
দা-ছুরি বিক্রেতা কমল কামার চট্টগ্রাম নিউজকে বলেন, বছর ঘুরে কোরবানির ঈদ এলেই স্বাভাবিকের চেয়ে ব্যস্ততা একটু বেশিই থাকে। এক দিন পড়ে ঈদ। তাই ক্রেতার চাপ অনেক বেশি। সবাই গরু কেনাকাটায় ব্যস্ত। তবে আমাদের প্রস্তুতি আমরা নিয়ে নিচ্ছি। আশা করি, কাল বেচাকেনা বাড়বে।

জামশেদুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা চট্টগ্রাম নিউজকে বলেন, কোরবানির পশু জবাই করার ছুরি ও মাংস কাটার জন্য একটি চাপাতি কিনেছেন। তিনি বলেন, নগরীর ছুরি ও চাপাতি মূলত মৌসুমি কসাইরাই বেশি কিনে থাকেন। অনেকে শখের বশে কেনেন।
দা-ছুরি বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি চামড়া খোলার ছুড়ি ৪০ থেকে ১৫০ টাকা। চাইনিজ কুড়াল ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। দা ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা। বটি ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা। গরু জবাইয়ের ছুরি প্রতিটি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। পুরনো যন্ত্রপাতি শান দিতে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।
পাহাড়তলী কামার পল্লির কারিগর মো. রমজান হোসেন জানান, তিনি ১৫ বছর ধরে এ পেশায় আছেন। প্রতি বছরই এ সময়টায় অনেক ব্যস্ত সময় পার করেন তিনি। এখন অনেক ব্যস্ততা। দিন যত গড়াবে ব্যস্ততা বাড়বে।
এ সময় প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত কাজ করেন তিনি। চলবে ঈদের আগের দিন রাত ২টা পর্যন্ত। কোরবানির ঈদের আগের ১ সপ্তাহ দোকানভেদে ২ লাখ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় হয়।
আরেক কামার নয়ন মিয়া বলেন, ‘যত কাজ তত টাকা। ভাত খাওয়ার সময় পাই না। ঈদের তিন দিন আগে থেকে বেশি ব্যস্ততা থাকে। এই সময়ে কাজ ছাড়া কিছু বুঝি না।
চকবাজারের কামার বিপ্লব কামার জানান, সারা বছর খুব একটা কাজ থাকে না। কোরবানি এলেই কাজ বেড়ে যায়। তাই এ সময়টাতে কাজ একটু বেশি করেন। এই সময়টাতে একটু বাড়তি আয়ের উদ্দেশ্যে দিন-রাত পরিশ্রম করেন।
অপরদিকে, ক্রেতারা অভিযোগ করছেন, ঈদ মৌসুমে ক্রেতা সমাগম বেশি হওয়ায় কামাররা ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাচ্ছেন। অন্য সময়ের তুলনায় প্রত্যেকটা সরঞ্জামের দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি নিচ্ছেন।
