বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে চার মাস বয়সী শিশু অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় এজাহারনামীয় দুই আসামিকে চট্টগ্রাম থেকে আটক করেছে র্যাব। একই অভিযানে অপহৃত শিশুটিকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) র্যাব-১৫ এর সহকারী পুলিশ সুপার,সহকারী পরিচালক, আ.ম ফারুক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
র্যাব জানায়, উদ্ধার হওয়া শিশু মারুফা জান্নাত মাহি (৪ মাস ৫ দিন) নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দক্ষিণ হালামী পাড়া গ্রামের মো. রশিদ উল্লাহ ও ইয়াছমিন আক্তারের মেয়ে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২১ আগস্ট শিশুটি তার বাবা-মায়ের সঙ্গে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় ফুপু বাড়িতে বেড়াতে যায়। সেখানে অতিথি হিসেবে মো. আলম ওরফে নুরুল আলম এবং ত্রিশা ওরফে মারিয়া ওরফে সানজিনা আক্তার তিশার সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়।
পরদিন ২২ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে ত্রিশা শিশুটিকে কোলে নিয়ে মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার কথা বলে পাশের ঘরে যান। কিছুক্ষণ পর শিশুটিকে সেখানে পাওয়া না গেলে পরিবারের সদস্যরা তাদের খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে শিশুটির বাবা সেখান থেকে চলে যান বলে র্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর ২৬ আগস্ট দুটি মোবাইল নম্বর থেকে শিশুটির মায়ের ব্যবহৃত নম্বরে ফোন করে অপহরণকারীরা দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে শিশুটিকে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে জানায় র্যাব।
এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় পাঁচজন এজাহারনামীয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও এক-দুজনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলাটি ২৬ আগস্ট দায়ের করা হয় এবং এতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
র্যাব-১৫ ও র্যাব-৭-এর যৌথ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, মামলার পলাতক ৩ ও ৪ নম্বর আসামি চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্দর থানা এলাকায় অবস্থান করছেন।
এর ভিত্তিতে সোমবার (৩১ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১১টা ৫ মিনিটে চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্দর থানাধীন কমিশনার গলির কাঁচাবাজার এলাকায় অভিযান চালায় র্যাব-৭ ও র্যাব-১৫-এর যৌথ দল। অভিযানে মো. আলম ওরফে নুরুল আলম (৩০) এবং তার স্ত্রী ত্রিশা ওরফে মারিয়া ওরফে সানজিনা আক্তার তিশাকে (২৫) আটক করা হয়। তাদের হেফাজত থেকে অপহৃত শিশু মারুফা জান্নাত মাহিকে উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানায়, আটক আসামি ও উদ্ধার শিশুকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
চট্টগ্রামনিউজ/ এসডি/
