চট্টগ্রামের বোয়ালখালী কর্ণফুুলি নদীর পাড় থেকে বিচ্ছিন্ন চরগুলোতে বাণিজ্যিকভাবে তরমুজের চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার যে অপার সম্ভাবনা রয়েছে, তা আগে কখনো স্থানীয় মানুষদের ধারণা ছিল না। বছরের পর বছর শত শত একর চরের জমি অনাবাদি হয়ে পড়ে থাকতো।
প্রথমবারের মতো নিজস্ব প্রায় ১০ একর জমিতে এবার আগাম তরমুজ চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন উপজেলার পশ্চিম গোমদন্ডী ইউনিয়নের চরখিজিরপুর টেক্সঘর এলাকার উদ্যেক্তা মো. ফারুক সুজন।
প্রায় এক বছর পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির পর তিনি নোয়াখালী, চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অভিজ্ঞ চাষিদের সাথে পরামর্শ করে এই উদ্যেগ নেন।
ভালো ফলন ও লাভবান হওয়ার আশায় মৌসুম শুরুর আগেই গত অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে আগাম জাতের (রেড ড্রাগন ও লাকী ড্রাগন) তরমুজ চাষ করেছেন তিনি।
শনিবার (১৭ জানুয়ারী) দুপুরে সুজনের তরমুজ ক্ষেতে গিয়ে দেখা গেছে,বিস্তীর্ণ চরজুড়ে এখন সবুজের উচ্ছ্বাস। বাতাসে দোল খাচ্ছে অজস্র তরমুজের লতা। যতদূর দৃষ্টি যায় শুধু সবুজ লতার ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে সবুজ ডোরাকাটা তরমুজ। বালুমাটি ভেদ করে গজিয়ে ওঠা চারাগুলো মাত্র ৭৫ দিনের মধ্যেই ফলে ফলে ভরে গেছে । দেখে মনে হবে মাটির মধ্যে তরমুজ ফেলে রাখা হয়েছে। যে চরে চাষাবাদ একসময় ছিল অনিশ্চিত, সেখানে এখন বাণিজ্যিক তরমুজ চাষে সফলতার আভাস স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
ফারুক সুজন বলেন, শুরুতে ঝুঁকি থাকলেও বীজ রোপণের অল্প সময়ের মধ্যেই মাটি ভেদ করে দ্রুত চারা গজিয়ে ওঠে। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই গাছ বিস্তৃত হয়েছে, যা চরের জমিতে তরমুজ চাষের বাস্তব সম্ভাবনা তুলে ধরছে।
তিনি বলেন, দৈনিক ৬-৭ জন লোক মাঠে সেচ, সার ও পরিচর্যার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। জমি তৈরী থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত ৬ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। আরো ১ লাখ টাকা খরচ হবে। ফলনও ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে
এ বছর আশা করি ২০ লাখ টাকার বেশি তরমুজ বিক্রি করতে পারব। এতে খরচ বাদে ৩ গুন লাভ হবে বলে জানান তিনি। সরকারিভাবে সহায়তা পেলে আগামীতে আরো বেশি করে তরমুজ চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান ফারুক সুজন। এতে স্থানীয় কৃষকরা তরমুজ চাষে আগ্রহী হবেন।
বাগানের দায়িত্বে থাকা নোয়াখালীর সুবর্ণচরের অভিজ্ঞ চাষি আব্দুল কাদের শিহাব বলেন, যুগ যুগ ধরে জমিগুলো অনাবাদি পড়ে থাকে। বৃথা পরিশ্রম হবে ভেবে কেউ চাষাবাদের চেষ্টাও করতেন না। এখন সেই জমিগুলোই স্বপ্ন দেখাচ্ছে তরমুজচাষিদের।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে অনেকগুলো তরমুজ বিক্রির উপযোগী হয়েছে। আশা করি রমজানের আগেই বাজারে বড় আকারের ও মিষ্টি স্বাদের তরমুজ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে ভালো দাম পাওয়া যাবে।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, এবার বোয়ালখালীতে তরমুজে আবাদ হবে ৪ হেক্টর জমিতে। কৃষকেরা আগ্রহী হয়ে বিস্তীর্ণ চর এলাকায় আগাম জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। ফলে আবাদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান উপজেলা কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শাহানুর ইসলাম।
তিনি বলেন, চরের পতিত জমিতে তরমুজ চাষে একদিকে অনাবাদি জমিগুলো চাষের আওতায় আসবে অন্যদিকে বোয়ালখালীর কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে। যেহেতু এই অঞ্চলে তরমুজ চাষ তুলনামূলকভাবে কম, চাষকে জনপ্রিয় করা গেলে একদিকে যেমন ফলের চাহিদা পূরণ হবে অন্যদিকে এখান বিপুলসংখ্যক কৃষি পরিবারও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে। এছাড়া তরমুজ সম্ভাবনাময় ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি ।
আর এইচ/
