চট্টগ্রামে এক পুলিশ সদস্যকে ইয়াবাসহ আটকের পর তাকে ছেড়ে দেওয়ায় সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে ৮ জন পুলিশ সদস্যকে। বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে উদ্ধার করা মাদক আত্মসাতের অভিযোগও আনা হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে তাদের বরখাস্ত করা হয়। নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন— বাকলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আল-আমিন সরকার, এসআই মোহাম্মদ আমির হোসেন (বর্তমানে কোতোয়ালি থানায় কর্মরত), সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সাইফুল আলম, মো. জিয়াউর রহমান, মো. সাদ্দাম হোসেন, এনামুল হক, কনস্টেবল মো. রাশেদুল হাসান ভূঞা ও নারী কনস্টেবল উম্মে হাবিবা।
পুলিশ সূত্র জানায়, মাদকদ্রব্য আত্মসাৎ, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান এবং বৈধ আদেশ অমান্য করার অভিযোগে পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গল (পিআরবি) বিধি-৮৮০ অনুযায়ী এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ ডিসেম্বর রাতে নগরের নতুনব্রিজ এলাকার একটি তল্লাশিচৌকিতে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী দেশ ট্রাভেলসের একটি বাসে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় কক্সবাজার জেলা পুলিশের কনস্টেবল মো. ইমতিয়াজ হোসেনের সঙ্গে থাকা একটি ট্রলি ব্যাগ থেকে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, উদ্ধার করা ইয়াবা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা আত্মসাৎ করেন। পরে রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটায় কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পরবর্তী সময়ে তদন্তে জানা যায়, কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেন কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার কয়েকজনের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে ইয়াবার চালান বহনে সম্মত হয়েছিলেন। কোনো ধরনের ছুটি না নিয়ে ইয়াবাভর্তি লাগেজসহ ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। নতুনব্রিজ এলাকায় তল্লাশির সময় তার কাছ থেকে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হলেও তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে নগর পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু করা হয়। তদন্তে ইয়াবাসহ ওই পুলিশ সদস্যকে ছেড়ে দেওয়ার তথ্য উঠে আসে।
বরখাস্তকালীন সময়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের দামপাড়া পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করে নিয়মিত হাজিরা ও রোলকল দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে তল্লাশি চৌকিতে ইয়াবাসহ পুলিশ সদস্যকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় গত ২৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দিন মাহমুদ স্বপ্রণোদিত হয়ে একটি মামলা করেন। একইসঙ্গে নগর পুলিশের উপকমিশনারকে (দক্ষিণ) সোমবার (৫ জানুয়ারির) মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
আর এইচ/
