চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) সদরঘাট থানা পুলিশের পরিচালিত বিশেষ অভিযানে চোরাই স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা সহ সংঘবদ্ধ চোরচক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গত (১৮ অক্টোবর)ডবলমুরিং থানাধীন নাজিরপুল পাঠানটুলি আলী মিয়া মুন্সি বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মো. রুবেল ওরফে সুমন (২৯), মো. জুয়েল ওরফে কসাই জুয়েল (৩৮) এবং শিবু ধর (৪৪)।
পুলিশ জানায়, গত ৩০ আগস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ায় লতিফা আফরোজ চৌধুরী (৬১) চিকিৎসার জন্য বাসা তালাবদ্ধ করে ঢাকায় যান। পরে ১১ সেপ্টেম্বর সকালে তাঁর বোন ইফাত আরা চৌধুরীর স্বামী বাসার জানালা খোলা ও গ্রিল কাটা অবস্থায় দেখতে পান। ঘরে প্রবেশ করে দেখা যায়, আলমারি ভাঙা ও জিনিসপত্র এলোমেলো। চুরি গেছে প্রায় ৩০ ভরি স্বর্ণ, ৮ ভরি রুপা এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী ইফাত আরা চৌধুরী সদরঘাট থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং–০৪, তারিখ ১২/০৯/২৫, ধারা ৪৫৭/৩৮০ পেনাল কোড)।
এরপর সদরঘাট থানার ওসি মো. আবদুর রহিমের নেতৃত্বে গঠিত একটি আভিযানিক টিম বিভিন্ন স্থানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মো. রুবেল ওরফে সুমনকে কর্ণফুলী থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সাথে জুয়েল ওরফে কসাই জুয়েলের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে।
রুবেলের তথ্যের ভিত্তিতে ১৮ অক্টোবর সকালে ডবলমুরিং থানাধীন নাজিরপুল পাঠানটুলি এলাকায় অভিযান চালিয়ে জুয়েলকে গ্রেফতার করা হয়। তার বাড়ি থেকে ৫৪,৭৮০ টাকা, একটি স্বর্ণের গলার হার (ওজন ৩২.১৪ গ্রাম) উদ্ধার করে পুলিশ।
তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, কিছু চোরাই স্বর্ণ বিক্রি করা হয়েছে শিবু ধর নামে এক ব্যক্তির কাছে। পরে পুলিশের অভিযানিক টিম একই দিন সন্ধ্যায় পাহাড়তলী থানার সহায়তায় শিবু ধরকে গ্রেফতার করে। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী কোতোয়ালি থানার হাজারী গলিস্থ দত্ত শিল্পালয় থেকে ২টি স্বর্ণের চুড়ি (ওজন ২৪.৯৬ গ্রাম) উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে সদরঘাট থানার ওসি মো. আবদুর রহিম।
এদিকে, অবশিষ্ট চোরাই মালামাল উদ্ধারে সদরঘাট থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
