চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলি) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্ব পাচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভোট। শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে ছিলো স্থানীয় পূজামণ্ডপগুলোতে নেতাদের আনাগোনা, শুভেচ্ছা বিনিময় ও প্রতিশ্রুতির বন্যা—সবই যেন আসন্ন নির্বাচনী কৌশলেরই অংশ।
স্থানীয় সূত্র বলছে, আনোয়ারায় সনাতন সম্প্রদায়ের ভোটসংখ্যা উপেক্ষা করার মতো নয়। তাই পূজাকে ঘিরেই প্রার্থীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে চাইছেন। সাবেক সংসদ সদস্য, বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী, জামায়াত, এনসিপি এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা পূজামণ্ডপে সরব হয়ে উঠেছেন। শুভেচ্ছা বার্তা, উপহার বিতরণ থেকে শুরু করে উন্নয়নের আশ্বাস—সবই এখন ভোটের সমীকরণের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত কয়েকদিনে বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন ,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য এবং তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম , বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ,চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান, বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য খোরশেদুল আলম, এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য জুবাইরুল আলম মানিক।
আনোয়ারা কচিকাঁচা গোষ্ঠী সার্বজনীন পূজা মণ্ডপের সভাপতি তাপস চৌধুরী বলেন, “উৎসব আনন্দের জায়গা, কিন্তু নির্বাচনের আগে নেতাদের বাড়তি ভিড় পূজায় রাজনীতির ছাপ ফেলছে।”
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার মতে, “জনগণের পাশে থাকা আমাদের দায়িত্ব। পূজার সময় সহযোগিতা করা কোনো রাজনৈতিক প্রদর্শনী নয়, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতা।”
স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য, আসন্ন নির্বাচনে সনাতনী ভোট নির্ধারক ভূমিকা রাখবে। তাই পূজা মণ্ডপে নেতাদের সরব উপস্থিতি কাকতালীয় নয়, বরং নির্বাচনী কৌশল। অ্যাডভোকেট বিজয় দাশ বলেন, “আনোয়ারায় যে দল সনাতন ভোটকে ধরে রাখতে পারবে, নির্বাচনে তাদের অবস্থান শক্ত হবে। পূজা সেই সুযোগটাই করে দিয়েছে।”
পূর্ণিমা আরতি দাশ নামে এক পূজার্থী বলেন, “আমরা চাই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা হোক। রাজনীতি হোক নির্বাচনের মাঠে, মণ্ডপে নয়।” তবে অন্য পূজার্থী পিকু দত্তের মতে, “নেতারা শুভেচ্ছা জানাতে আসলে খারাপ কিছু নেই। কিন্তু এটার সঙ্গে নির্বাচনের হিসাবও জড়িত—এটা আমরা বুঝি।”
এদিকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। আনোয়ারা থানার ওসি মো. মনির হোসেন জানান, উপজেলায় ১১৪টি সার্বজনীন এবং ১৮৫টি ঘটপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপেই সিসিটিভি ক্যামেরা ও টহল পুলিশের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
আজ বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আনোয়ারায় শারদীয় দুর্গোৎসব শেষ হয়েছে। তবে পূজা উপলক্ষে নেতাদের সক্রিয় তৎপরতা স্পষ্ট করে দিয়েছে—সনাতন ভোট ঘিরেই এখন থেকে নির্বাচনী সমীকরণ আঁকা শুরু হয়েছে।
চট্টগ্রাম নিউজ/ আর এইচ
