বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বলেছেন, সীমান্ত রক্ষায় জনবল ও সক্ষমতা আরও বাড়াতে নতুন ব্যাটালিয়ন স্থাপন ও ৫ হাজার জনবল নিয়োগের বিষয়ে সরকার আশ্বাস দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বিজিবিতে বর্তমানে প্রায় ৫৭ হাজার সদস্য রয়েছে। তারা প্রতিনিয়ত ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন। উখিয়াতে একটি ব্যাটালিয়ন হয়েছে, আগামীতেও বিভিন্ন জায়গায় ব্যাটালিয়ন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।’
জনবল সংকট মেটাতে আগামীতে ৫ হাজার জনবল অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সরকার আশ্বাস দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের বায়তুল ইজ্জতে অবস্থিত বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে ১০৩তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান বিজিবি মহাপরিচালক।
সীমান্তে পুশইন বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ‘সীমান্তে প্রতিনিয়ত পুশব্যাক বা পুশইন হচ্ছে। মাঝেমধ্যে হয়তো দু-একদিন বন্ধ থাকে, তবে পুরো প্রক্রিয়াটি বন্ধ হয়নি। বিএসএফ, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ ভারতীয় হাইকমিশনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।’
তিনি জানান, পুশইনের শিকার হয়ে যারা বাংলাদেশে আসছে, তাদের বেশিরভাগই বাংলাদেশি হলেও কিছু ভারতীয় নাগরিক ও রোহিঙ্গাকেও জোর করে পাঠানো হচ্ছে। ‘শুরু থেকে আমরা এর কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি।’ — বলেন বিজিবি মহাপরিচালক।
নবীন নারী সৈনিকদের উদ্দেশে মহাপরিচালক বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তোমরা বিজিবির সুনাম ও সুখ্যাতি বৃদ্ধিতে সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করবে।’ তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে নারীদের অবিস্মরণীয় অবদানও স্মরণ করেন।
নবীন সৈনিকদের শৃঙ্খলা ও দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সততা, নিষ্ঠা ও পেশাগত দক্ষতার ওপরই বাহিনীর ভাবমূর্তি নির্ভর করে। শৃঙ্খলা হচ্ছে সৈনিক জীবনের অলংকার। কোন অবস্থাতেই প্রতিপক্ষ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে পিঠ প্রদর্শন করা যাবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশমাতৃকার অখণ্ডতা রক্ষায় নবীন সৈনিকরা জীবন দিবে, কিন্তু এক ইঞ্চি মাটিও হাতছাড়া করবে না। কখনো হতাশ বা নিরাশ করবে না দেশবাসীকে। সীমান্তে তারা নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক হয়ে থাকবেন।’
বক্তব্যের শুরুতে মহাপরিচালক ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী বিজিবির ৮১৭ জন বীর শহীদ ও ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, বিজিবি দেশের সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি চোরাচালান, নারী ও শিশু পাচার রোধ ও সীমান্ত অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায়ও বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করে বিজিবি সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।
১০৩তম রিক্রুট ব্যাচের মৌলিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছিল গত ২৬ জানুয়ারি। ২৪ সপ্তাহের প্রশিক্ষণ শেষে ৬৫৮ জন পুরুষ ও ৩৬ জন নারীসহ মোট ৬৯৪ জন রিক্রুট সৈনিক জীবনে পদার্পণ করেছেন।
কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডার ছিলেন মেজর মোহাম্মদ ফজলে রাব্বি। এবারের ব্যাচের সেরা রিক্রুট নির্বাচিত হয়েছেন সাইফ মিয়া।
অনুষ্ঠানে বিজিবির উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও গুণীজনরা উপস্থিত ছিলেন।
সবশেষে বিজিবি’র প্রশিক্ষিত সদস্যদের ট্রিক ড্রিল ও মনোজ্ঞ ব্যান্ড ডিসপ্লে উপভোগ করেন অতিথিরা।
আর এইচ/
