আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহার আর মাত্র ১দিন বাকি। ঈদকে সামনে রেখে সাতকানিয়ায় জমে উঠেছে স্থায়ী একটি স্থায়ী ও ১৮টি অস্থায়ী পশুর হাট। শেষ মুহূর্তে পশুর হাটগুলোতে বাড়ছে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। তবে এ বছর কোরবানির পশুর দাম নিয়ে অসন্তুষ্ট ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্যমতে, উপজেলায় এ বছর ৪৫ হাজার ২৮০ টি কোরবানির পশুর চাহিদার বিপরীতে গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে ৪৩ হাজার ২৮৮ টি। যা দিয়ে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও ১ হাজার ৯৯২ টি কোরবানিযোগ্য পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।
সরেজমিন দেখা যায়, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে উপজেলার একমাত্র স্থায়ী গরু-ছাগলের বাজার কেরানিহাট। এছাড়া বাজালিয়া, ফকিরহাট, দেওদিঘী ও পুরানগড়সহ উপজেলার ১৮টি বিভিন্ন স্থানে বসা অস্থায়ী পশুর হাটগুলোতে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে গরু নিয়ে এসেছে খামারি ও ব্যবসায়ীরা। ক্রেতারাও শেষ মুহূর্তে এসে হাটগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন। রাস্তার দুপাশে পশুর হাট বসানোর ফলে কেরানিহাট-বান্দরবান মহাসড়কের বাজালিয়া অংশে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজটের।
উপজেলায় এ বছর সরাসরি খামার ও কোরবানির পশুর হাটগুলোতে অধিক বাণিজ্য হবে। তবে গো-খাদ্য, ওষুধ ও পরিচর্যা খরচের বিপরীতে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় হতাশ খামারিরা। আর অন্য দিকে সাধারণ ক্রেতাদের দাবী অন্যবারের তুলনায় এবার কোরবানির পশুর দাম বেশি হাঁকানো হচ্ছে।
খামারি ও ব্যবসায়ীরা জানান, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পশুর হাটগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেলেও বিক্রি তুলনামূলক কম। দাম বেশি হওয়ায় মধ্যবিত্তরা এবার ঝুঁকছেন ছোট ও মাঝারি সাইজের পশু ক্রয়ের দিকে। ফলে এবারের কোরবানিতে বড় সাইজের গরুর চাহিদা কম বললেই চলে। তবে মাঝারি সাইজের গরু ও ছাগলের চাহিদা তুলনামূলক বেশি। গো-খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় পশু পালনে খরচ অনেক বেড়েছে। তাই কোরবানির পশুর দাম একটু বেশি বলে জানান বিক্রেতারা।
খামারি আবুল হোসেন বলেন, শুরুতে গরুর দাম ভালো পাওয়া গেলেও শেষ মুহুর্তে এসে অনেকটাই কমে গেছে। শুরুতে বিক্রি করা বেশ কয়েকটি গরুতে কাঙ্খিত দাম পেয়েছি। এখন বাকি গরুগুলোর দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছি। ক্রেতারা আসছেন, গরু দেখছেন তবে দাম শুনার পর চলে যাচ্ছেন।
সিজানাল গরু মোটা তাজাকরণকারী আলী আহম্মদ বলেন, প্রতি বছরের মত এ বছরও ১২টি গরু কোরবানির বাজারে বিক্রির জন্য নিয়েছিলাম। অনেক ক্রেতা বাড়িতে গিয়ে আমার গরুর যে দাম চেয়েছিল হাটে আনার পর একই গরুর দাম ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা কমে গেছে। এই দামে গরু বিক্রি করলে খরচ তোলা সম্ভব না। কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে গরুটি বিক্রি করব কিভাবে?
অন্যদিকে ক্রেতারা বলেন, পশুর যে দাম সে তুলনায় মাংস পাওয়া যাচ্ছে না। মাংসের সাথে গরুর দামের হিসাব করলে অনেক ব্যবধান। মাংসের তুলনায় দাম অনেক বেশি হয়ে যাচ্ছে। ফলে পছন্দ অনুযায়ী পশু ক্রয় করা যাচ্ছে না। তারপরও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি পছন্দের গরুটি ক্রয় করার।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের দ্বিতীয় বৃহত্তম গরু বাজার কেরানিহাট বাজারের ইজারাদার নাজিম উদ্দীন বলেন, নিয়মের বাইরে হাসিল নেওয়া হচ্ছে না। বাজারে এসে যাতে ক্রেতা-বিক্রেতা হয়রানীর শিকার না হয়, সে জন্য অতিরিক্ত লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত বুধবারের বাজারে গরু বিক্রি তেমন না হলেও আগামী রোববার শেষ বাজারে বেশি গরু বিক্রির আশা করছি।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মিজানুর রহমান বলেন, এ বছর খামারি ও ব্যক্তি পর্যায়ে অনেকে পশু প্রস্তুত করেছেন। তাতে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রায় দুই হাজার কোরবানিযোগ্য পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। উদ্বৃত্ত পশুগুলো চট্টগ্রামসহ আশেপাশের জেলায় সরবরাহ করা হবে। এ বছর গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক কিছুটা বেড়েছে। একটু বাড়তি দাম হলেও নিজ এলাকার হাটগুলো থেকে পশু ক্রয় করার আহ্বান জানাচ্ছি। তাতে করে খামারিরা লাভবান হবেন এবং আগামীতে পশু পালনে আগ্রহী হবে।
সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রিটন সরকার বলেন, কোরবানির পশুর হাটের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ। টহলরত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পশুর হাটে জাল নোট ও অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের ঠেকানোর জন্য পুলিশের কড়া নজরদারি রয়েছে।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিল্টন বিশ্বাস বলেন, গরুর বাজারে এসে ক্রেতা-বিক্রেতা যাতে অসুবিধার সম্মুখীন না হয় সে জন্য গত বৃহস্পতিবার (১৩জুন) হাইওয়ে, থানা ও ট্রাফিক পুলিশ, বাজার ইজারাদার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক হয়েছে। মহাসড়কে যাতে গরুর বাজারের কারণে যানজটের সৃষ্টি না হয় সে জন্য কাজ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশা করি গরু ক্রয়-বিক্রয়ে কোন সমস্যা হবে না। তাছাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমি ও এসি ল্যান্ড বাজার মনিছরীছথটরিং করব। পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন কর্মকর্তাকে বাজার তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
