আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর থেকে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে গত ১১দিন ধরে ট্রলারসহ নিখোঁজ ১৫ মাঝি মাল্লার সন্ধান মিলেছে মিয়ানমারে।
ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় ট্রলারসহ নিখোঁজ জেলেরা ভাসতে ভাসতে মিয়ানমার জলসীমায় চলে গেলে সেখানে তাদের উদ্ধার করে মিয়ানমার নৌবাহিনী। পরে নৌবাহিনী বাংলােেশর জলসীমায় নিয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে ট্রলারসহ জেলেদের হস্তান্তর করে। এ সময় মিয়ানমার নৌবাহিনী জেলেদের জন্য পর্যাপ্ত খাবারসহ জ্বালানি তেল উপহার দেয়।
গতকাল রবিবার রাত সাড়ে ১১টায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ওই জেলেদের ট্রলারসহ নিয়ে সেন্টমার্টিন উপকূলে পৌঁছায়। সেখানে তাদের কাছ থেকে মুচলেখা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে সেন্ট মার্টিন কোস্ট গার্ড জেটিতে অবস্থান নিয়ে ট্রলারের ইঞ্জিন মেরামতের কাজ করা হচ্ছে। এমনটাই বলেছে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ গণমাধ্যম ও জনসংযোগ কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার।
তিনি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, জেলেদের ইঞ্জিন বিকল হয়ে মিয়ানমার জলসীমায় ফিশিং ট্রলার ৯৯৯ নম্বরে ফোন কলে মিয়ানমার নৌবাহিনীর হেফাজত থেকে ১৫ জন জেলে উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ বোটটি গতকাল ১৪ জানুয়ারি মিয়ানমারের একটি ফিশিং ট্রলার সাগরে ভাসমান বিকল বোটটিকে দেখতে পায় এবং বোটটিকে টেনে মিয়ানমার-বাংলাদেশ জলসীমায় নিয়ে যায়। এরপর বোটের একজন কালু মাঝি বোটের মালিককে ফোনে জানায় তারা মিয়ানমার নৌবাহিনীর হেফাজতে আছেন। এমন তথ্য জানানোর পর আনোয়ারা থেকে বোটের মালিক ওবায়দুল হক ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’ নম্বরে উদ্ধার সহায়তার অনুরোধ জানিয়ে ফোন করেন ১৪ জানুয়ারি ২০২৪ রবিবার রাত আটটায়। এমন তত্যের ভিত্তিতে ৯৯৯ কলটেকার কনস্টেবল নোবেল দাস কোষ্ট গার্ড নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও সেন্টমার্টিন কোষ্ট গার্ডকে বিষয়টি দ্রæত উদ্ধারের ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জানায় । পরবর্তীতে ৯৯৯ ডেসপাচার এসআই জয়ন্ত চৌধুরী কলার এবং উদ্ধার সংশ্লিষ্ট সবার সাথে যোগাযোগ করে উদ্ধার তৎপরতার আপডেট নিতে থাকেন। প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে সেন্ট মার্টিন কোষ্ট গার্ডের উদ্ধারকারী দল মিয়ানমার-বাংলাদেশ জলসীমায় গিয়ে মিয়ানমার নৌবাহিনীর হেফাজত থেকে ১৫ জন জেলে সহ বিকল বোটটিকে উদ্ধার করে সেন্ট মার্টিন নিয়ে আসা হয়।
আরও পড়ুন; সাগরে নিখোঁজ এনএসআই কর্মকর্তা মোস্তফা ও জুইয়ের মরদেহ উদ্ধার
নিখোঁজ ১৫ জেলেরা হলেন মো. নুরুজ্জমান ওরফে কালু, আবদুল মন্নান, মহিউদ্দিন, মো. রায়হান, কালু মিয়া, আলী হোসেন, মো. রাশেল, মো. মোরশেদ, মো. বোরহান, আবুল মনসুর, আলী আহমদ, আবদুল হান্নান, জালাল উদ্দিন, আবু ছাদেক, আবদুল করিম। তাদের বয়স ১৯ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে। সবার বাড়ি আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সেন্টমার্টিন কোস্ট গার্ড স্টেশন কমান্ডার লে. তাকিউল আহসান বলেন, মিয়ানমার নৌবাহিনীর মাধ্যমে খবর পেয়ে সাগরে টহলরত কোস্ট গার্ডের জাহাজ গিয়ে ট্রলারসহ জেলেদের উদ্ধার করে উপকূলে নিয়ে আসে। মিয়ানমার নৌবাহিনী তাদের জলসীমায় ট্রলারটির সন্ধান পায় রবিবার সকালে। ওই দিন বিকেলে তারা সংকটাপন্ন অবস্থায় বাংলাদেশি জেলেদের জলসীমায় নিয়ে এসে কোস্ট গার্ডকে বুঝিয়ে দেয়। পরে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের জাহাজ ওই ১৫ জেলেকে সেন্টমার্টিন নিয়ে আসে ।
