সুপার শপের বাইরে সরকারের বেঁধে দেওয়া দরে ডিম পাচ্ছে না ক্রেতারা। এক ডজন ডিম কিনলে দাম পড়ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। হালি কিনলে পড়ছে ৫৫ টাকা।
অথচ ডজনের দাম হওয়ার কথা ১৪৪ টাকা, আর হালি হওয়ার কথা ৪৮।
সরকার দাম বেঁধে দেওয়ার চতুর্থ দিনে রোববার রাজধানীর শনির আখাড়া, যাত্রাবাড়ী, মতিঝিল ও সেগুনবাগিচার দোকানগুলোতে এই তথ্য মিলেছে।
গত বৃহস্পতিবার আলু, পেয়াঁজসহ তিনটি কৃষি পণ্যর খুচরা পর্যায়ে সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ করে দেয় সরকার, যেখানে প্রতিটি ডিমের দাম সর্বোচ্চ ১২ টাকা করা হয়।
শনির আখাড়ার মেসার্স আরিফ ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের বিক্রেতা আরিফ খান বলেন, ‘এক হালি নিলে ৫৫, প্রতি পিস ১৪ টাকা।’’
মতিঝিল সরদার কলোনির দোকানি তারিক হাসান বলেন, ‘ডজন ১৬০ টাকায়ও বিক্রি করি। হালি কিনলে ৫৫ টাকা দিতে হবে।’’
সেগুনবাগিচা কাঁচা বাজারের তৃপ্তি স্টোরের বিক্রয় কর্মী সোহেল আহমেদ বলেন, এক ডজন ১৬০ টাকা। হালি নিলে ৫৫ টাকা আর খুচরা যে কয়টা নিক ১৫ টাকা পিস।’
এই বাজারে ডিম কিনতে আসা আব্দুর রউফ বলেন, ‘অনেক কিছুরই তো দাম নির্ধারণ করে দেয় সরকার। কিন্তু বাজারে তার প্রভাব কম। দেখেন, দুটো ডিম কিনলাম ৩০ টাকা দিয়ে।’
সরকার দাম ঠিক করে দেওয়ার পর ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে তর্কাতর্কি বেড়েছে। দাম কেন বেশি, এই প্রশ্নে রাগারাগির জবাবে বিক্রেতারাও মেজাজ দেখিয়ে বলছেন, সরকারের কাছ থেকে কিনতে।
এমনকি অনলাইন প্লাটফর্ম ‘চাল-ডাল’ও রোববার ৬টি মুরগির ডিম বিক্রি করছে ৭৫ টাকায়, আর এক ডজনের দাম রেখেছে ১৪৯ টাকায়। আজকের ডিল এই প্লাটফর্মে ডিম বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে।
‘অথবা’ প্রতি ডিম ১২ টাকা দরে নির্ধারিত ১৪৪ টাকা দরেই বিক্রি করছে। সুপার শপ স্বপ্ন ও মীনা বাজারে গিয়েও দেখা গেছে সরকারি আদেশ মান্য করার বিষয়টি।
বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুমন হাওলাদার বলেন, ৮০ শতাংশ ডিম খামারিরা বাজারে সরবরাহ করলেও ২০ শতাংশ সরবরাহ করে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। এখানে সরকারের ভূমিকা প্রয়োজন।
