জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার সময়ের দাবি, ন্যায্য দাবি বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ।
আজ বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে এক সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।
বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের উদ্যোগে ১৫ই আগস্ট হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড, মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী, খুনি জিয়াউর রহমান এর মরণোত্তর বিচার, ’৭৫-এর পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় কার্যকর, ২১ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড পলাতক আসামি তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় কার্যকর এবং কানাডার ফেডারেল কোর্ট কর্তৃক সন্ত্রাসী সংগঠনের আখ্যা পাওয়া বিএনপি’র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবিতে সমাবেশ ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেন, ১৫ই আগস্ট ছিল মুলত একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও তাদের আন্তর্জাতিক দোসরদের সুগভীর চক্রান্তে সুপরিকল্পিত গণহত্যাকা।
যার আলটিমেট টার্গেট ছিল এই দেশ থেকে চিরতরে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস-সর্বস্ব মুছে দেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় পরিচালিত করা, একটি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করে একাত্তরের পরাজয়ের চরম প্রতিশোধ গ্রহণ করা।
‘বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করেছিল, তারা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকেই হত্যা করতে চেয়েছিল। হত্যা করতে চেয়েছিল এ দেশের গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষাকেই। তাই আমাদের পরিস্কার দাবি- ’৭৫-এর হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড জিয়াউর রহমান এটা আজকে জনসাধারণের কাছে পরিস্কার, বিশেষ করে যুব সমাজের কাছে। কারণ একটাই এই হত্যাকাণ্ডের বেনিফিশারি বিএনপি। তারা বন্দুকের নল ব্যবহার করে সন্ত্রাসের মাধ্যমে বিএনপি গঠন করে।’
’৭৫ পরর্তী সময়ে বিএনপি বাংলাদেশের জনগণের ওপর যেভাবে অত্যাচার, নির্যাতন, হত্যা, রাহাজানি, সন্ত্রাস চালিয়েছে তাতে আমরা নৈতিকভাবে মনে করি বিএনপি-জামাতের বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার নাই।
এ কারণেই আমরা বাংলাদেশের যুবসমাজের পক্ষ থেকে, মুক্তিযুদ্ধে চেতনায় বিশ্বাসী, প্রগতিশীল মানুষের পক্ষ থেকে জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার চাই।
যারা বাংলাদেশে অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল, একটি উন্নত-মর্যাদাশীল সমাজ ব্যবস্থা নির্মাণের লক্ষ্যে সংগ্রাম করে যাচ্ছে সেই সকল মানুষের প্রত্যাশা জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার না হলে বাংলাদেশ প্রকৃত পক্ষে কলংমুক্ত হবে না। তাই আজকে জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার সময়ের দাবি, ন্যায্য দাবি।’
তিনি আরও বলেন, ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার যে ন্যাক্কারজনক হত্যাকাণ্ড সে হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি, বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনাকে হত্যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার যে অপপ্রয়াস চালিয়েছিল খুনি তারেক জিয়া।
সেই তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে আদালতের রায় রয়েছে। তিনি বিদেশে পলাতক, অবিলম্বে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করতে হবে। কারণ সে বিদেশে থেকে ন্যাক্কারজনকভাবে এদেশে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করে যাচ্ছে।
‘আমাদের যুবলীগের নেতা-কর্মীদের হত্যা করছে। একারণেই আমরা নির্বাচন কমিশনেও যাবো, যেন জামাতের মতো বিএনপির নিবন্ধন বাতিল করা হয়, যেন বিএনপি এদেশে আর সন্ত্রাসের রাজনীতি না করতে পারে।
একই সাথে ’৭৫-এর পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করতে হবে। তাহলেই প্রকৃত পক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব দরবারে আমাদেরকে সভ্য দেশ হিসেবে যে মর্যাদা এনে দিয়েছেন, নাম দিয়েছেন, সেই নাম আগামী প্রজন্ম টেনে নিয়ে যাবে।
