চারদিনের টানা বর্ষনে ফটিকছড়ির ২ টি পৌরসভাসহ ১৮ ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। যার ফলে এসব এলাকার হাজার হাজার মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছেন। বন্যার পানিতে এলাকাগুলোর শতশত একর রোপা আমন বীজতলা ও বর্ষাকালীন সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে।
পাশাপাশি টানা বর্ষণের কারনে হালদা, ধূরুং,সর্ত্তা, লেলাং, তেলপারইসহ ফটিকছড়ির অধিকাংশ নদী ও খালের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রভাহিত হচ্ছে।
সোমবার (৭ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার বক্তপুর ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ ওয়ার্ডে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি অভ্যন্তরীণ সড়ক পানিতে ডুবে গিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি ১৫ থেকে ২০ টি মাছের ঘের ও অধিকাংশ পুকুর ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও বন্যায় মুরগী ও গরুর খামারগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়।
অন্যদিকে, নানুপুর,লেলাং, রোসাংগিরী, সমিতিরহাটসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চলে বন্যার পানি দেখা দিয়েছে। ইউনিয়নের গ্রামীণ সড়ক ছাড়াও গহিরা হেয়াকো সড়কের বেশ কয়েকটি স্থান বন্যার পানিতে ডুবে গেছে।
এছাড়াও এসব এলাকার অধিকাংশ বিলগুলো পানিতে ডুবে গিয়ে রোপা আমনের ক্ষয়ক্ষতি লক্ষ্য করা গেছে।
অন্যদিকে, হালদা নদীর পানি প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাওয়ায় নাজিরহাটের ঝুঁকিপূর্ণ হালদা সেতু নিয়ে উদ্ধিগ্ন হয়ে পড়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। তীব্র স্রোতে নড়বড়ে সেতুটি যে কোন মূহুর্তে বিধ্বস্ত হতে পারে বলে আশংকা স্থানীদের।
বন্যার সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাব্বির রাহমান সানি বলেন অধিকাংশ ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চল টানা বর্ষনে কম বেশী প্লাবিত হয়েছে। তবে বক্তপুরে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশী হবে।
সবকটি ইউনিয়নের জন্য আপাতত ১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া দূর্গত এলাকার প্রতি ইউনিয়নের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ সহায়তা ঘোষণা করা হয়েছে।
