মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব কুরবানি সামনে রেখে ফটিকছড়ির অর্ধশতাধিক স্থানে অবৈধভাবে পশুর হাট বসানো হয়েছে।
কোন ধরনের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে কতিপয় রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তি পশুর হাট বসিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
জানাগেছে, যত্রতত্র পশুর হাট বসানোর ফলে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। পাশাপাশি বৈধ বাজার গুলোতে পশু বেচাকেনা কমে গিয়ে লোকসান গুনতে হচ্ছে ইজারাদারদের।
এদিকে, সড়কের ওপর পশুর হাট বসানোর কারনে প্রতিনিয়ত যানজট যেমন সৃষ্টি হচ্ছে, তেমনি ভাবে শিক্ষা প্রতিষ্টানের মাঠ ব্যবহারের ফলে লঙিত হচ্ছে আইন।
তবে হাতেগোনা কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রশাসন ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে পশুর হাট বসালেও বেশীরভাগে অনুমতি ছাড়াই মাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে।
উপজেলার ১৮ ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভায় অন্তত ৫০টি স্থানে অবৈধ পশুর হাট বসানো হয়েছে। এর মধ্যে ড. এনামূল একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, নানুপর আবু সোবহান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, মাইজভান্ডার আহমদিয়া রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, দাঁতমারা এবিজেড উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, হেয়াকো বনানী কলেজ মাঠে পশুর হাট বসিয়ে হাসিল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়াও লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর ইসলামীয়া বাজার, পাইন্দং ইউনিয়নের চামার দিঘী,কাঞ্চন নগরের চৌমুহনী, ভূজপুর ইউনিয়নের কাজীরহাট, মীর্জারহাট, বাউদ্দারপাড়, রাবার ড্যাম এলাকায় সড়কের ওপর জমজমাট পশুর হাট বসানো হয়েছে।
বাজার ঘুরে দেখাযায় , কুরবানী দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসায় জমে উঠেছে পশুর হাট। যার ফলে বাজার গুলোতে বেড়েছে মানুষের পদচারণা।
উপজেলার বেশ কয়েকটি প্রধান ও অভ্যন্তরীণ সড়কের ওপর পশুর হাট বসানোর ফলে দুর্ঘটনাও ঘটে চলেছে অহরহ।
পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে হাট বসানোর ফলে মাঠজুড়ে পশুর বর্জ্য পড়ে থাকায় নষ্ট হচ্ছে বিদ্যালয়ের পরিবেশ।
এছাড়াও অতীত সময়ে কোন কোন স্কুল মাঠের আদায়কৃত হাসিলের টাকা বিদ্যালয় ফান্ডে জমা না দিয়ে নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারার অভিযোগও রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাব্বির রাহমান সানি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ এবং সড়কের ওপর হাট বসানোর কোন সুযোগ নেই। কুরবানির কারণে হয়তো কেউ কেউ মাঠ ব্যবহার করছেন। খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।
