তিলে তিলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এই আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে ৭০ এর নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে জয়লাভ করেছিলেন। আজ আমরা একটা স্বাধীন দেশের নাগরিক। জাতি হিসেবে আমরা গর্ব করার মতো একটা অবস্থানে পৌঁছেছি।
বিশ্বের উন্নত-ক্ষমতাধর রাষ্ট্রপ্রধানরা আজকে আমাদের দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি নিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করেন। কিন্তু দেশের এই উন্নয়ন-অগ্রগতি এবং এগিয়ে স্বাধীনতা বিরোধীদের পছন্দ নয়। তাই তারা দেশে বিরোধী নানান ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। যাদের হাতে গণতন্ত্র নিরাপদ ছিলনা কখনো তারাই গণতন্ত্রের কথা বলছে।
গত শনিবার (২৪ শে জুন) বিকেলে নগরীর কাজির দেউড়িস্থ ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটি সেন্টারে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৪ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ভূমিমন্ত্রী আলহাজ্ব সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এম পি।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ প্রাক্তন সাংগঠনিক সম্পাদক এড: জহির উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্রতিষ্টাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ শামসুল হক চৌধুরী এমপি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, নজরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি।
ভূমিমন্ত্রী আরও বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আসেন। এরপর তিনি ২১ বছর দীর্ঘ সংগ্রাম করেছেন। ওদিকে, প্রহসনের নির্বাচন করেছিলো বিএনপি।
দেশের জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে এবং গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে আওয়ামীলীগ সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। আজকের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রমের ফসল হচ্ছে-দেশের আজকের গণতন্ত্র। এই দীর্ঘ আন্দোলনের ধারাবাহিকতা ১৯৯৬ সালে আ. লীগ ক্ষমতায় এসেছিলো।
সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, দেশে গণতন্ত্র বিকাশ হচ্ছে শেখ হাসিনার হাত দিয়ে। একমাত্র আওয়ামী লীগই শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে শুধু উন্নয়নই নিশ্চিত করেননি, তিনি সুশাসন নিশ্চত করেছেন।
স্বাস্থ্যখাত, উৎপাদন খাত সব ক্ষেত্রে সাফল্য দেখিয়েছেন। স্বাধীনতার ৫১ বছর পর পদ্মা সেতু হয়েছে, যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটিয়েছেন, বাংলাদেশ পৃথিবীর একটা অবস্থানে নিয়ে গেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। সারা বিশ্বে তিনি প্রসংশিত হচ্ছেন।
বাংলাদেশে নির্বাচনের পর সবচেয়ে শান্তিপূর্ণভাবে আওয়ামী লীগই ক্ষমতা হন্তান্তর করেছেন, এর বাইরে সবাইকেই টেনে হিঁচড়ে ক্ষমতা থেকে নামানো হয়েছে। হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে টেনে হিঁচড়ে ক্ষমতা থেকে নামানো হয়েছে, ৯৬-এ খালেদা জিয়াকে টেনে হিঁচড়ে নামানে হয়েছে। আর ২০০১ সালে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হন্তান্তর করেছে আওয়ামী লীগ। এটা আর কারও হাতে হয়নি।
জাতীয় সংসদের হুইপ শামসুল হক চৌধুরী এমপি বলেন, আওয়ামী লীগ সংগ্রামে বিজয়ে গৌরবে সুদীর্ঘকাল পার করেছে। এই উপমহাদেশে এই দলের বিশাল বিশাল অর্জণ বিশ্বে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন।
যে অর্জণগুলো জনগণের অধিকার, উন্নয়ন ও মর্যাদার সাথে সম্পর্কিত। ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ জনগণ প্রত্যাশা করে মন্তব্য করে তিনি বলেন আমরা দুঃসময়কে মোকাবিলা করে বর্তমান সময়ে এসেছি, ভবিষ্যৎ এর সোনালী অধ্যায় রচনা করতে আমাদের আরো ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল কর্মকান্ড পরিচালনা করা আজ সময়ের দাবী।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন বলেন, ঐতিহাসিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আয়োজনে মাথা উঁচু করে এখন আমরা বলতে পারি, শেখ হাসিনা নতুন মাত্রায় নতুন উচ্চতায় বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন। একটি দেশকে কিভাবে সামনের দিকে নিয়ে যেতে হয় শেখ হাসিনা তা দেখিয়েছেন।
তিনি বলেন গণতন্ত্রের হত্যাকারীদের গণতন্ত্রের জন্য মায়াকান্না মানায়না। বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার করা যাবেনা, এই আইন যারা পাশ করে, ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের সাথে বেঈমানী করে স্বীকৃত রাজাকারের গাড়ীতে যারা বাংলাদেশের পতাকা ওড়ায়, সংবিধানকে বুটের তলায় যারা তছনছ করে তাদের মুথে গণতন্ত্রের মায়াকান্না দেখে জনগণের মন গলেনা বলেই তাদের মিথ্যা এ ষড়যন্ত্রের রাজনীতি ব্যার্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।
নজরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি বলেন, আওয়ামী লীগ টিকে থাকলে বাংলাদেশ ঠিকে থাকবে। দেশ শক্তিশালী হচ্ছে আওয়ামী লীগকেও শাক্তিশালী করে তুলতে হবে। আওয়ামী লীগ এখনো তারন্যের উচ্ছাস নিয়ে রাজনীতি করছে। আওয়ামী লীগ শেকড় জনগনের হৃদয়ে গাঁথা আছে তাই এ দলের বিরুদ্ধে কোন ষড়যন্ত্র সফল হয়নি সফল হবেনা।
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ জন্মে ও কর্মে সফল একটি দলের নাম। মানুষের চোখের ভাষা বুঝে রাজনীতি করে বলেই এই দলটি সবসময় সফলতার পরিচয় দিয়েছে।
জনগণ এখনো মনে করে এদেশ, আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার হাতেই নিরাপদ। জনগণের চাহিদা পূরণে জ্বালানী, শিল্প, শিক্ষা, চিকিৎসা ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জনের ফলে জনগণ শেখ হাসিনার প্রতি আস্থাশীল। এই আস্থার সাথে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ শক্তি যোগ করতে হবে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ প্রাক্তন সাংগঠনিক সম্পাদক এড: জহির উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগ নেতা এস এম আবুল কালাম, চেমন আরা তৈয়ব, শাহাজাদা মহিউদ্দিন, প্রদীপ দাশ, সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এম এ মোতালেব, সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিন চৌধুরী, পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আ ক ম শামসুজ্জামান চৌধুরী, বোয়ালখালী উপজেলা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নুরুল আমিন চৌধুরী, চন্দনাইশ উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবু আহমেদ জুনু, জাফর আলম, কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ফারুক চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগ সভাপতি দিদারুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম জহুর, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মো: জোবায়ের, সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মো: গালিব সাদলী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শামীমা হারুন লুবনা, দক্ষিণ জেলা মৎস্যজীবী লীগ সাধারণ সম্পাদক সুরেশ দাশ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি এস এম বোরহান উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মো: আবু তাহের প্রমুখ।
উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ নেতা এড: মির্জা কছির উদ্দিন, মোছলেহ উদ্দিন মনসুর, সাংবাদিক আবু সুফিয়ান, এড: মুজিবুল হক, খোরশেদ আলম, নুরুল আবছার চৌধুরী, বোরহান উদ্দিন এমরান, আবদুল কাদের সুজন, আবদুল হান্নান চৌধুরী মঞ্জু, ডা: তিমির বরণ চৌধুরী, বিজয় কুমার বড়ুয়া, মো: নাছির, মো: আইয়ুব আলী, মোস্তাক আহমদ আঙ্গুর, দেবব্রত দাশ, বিজন চক্রবত্তী, আবুল কালাম আজাদ, মাহবুবুর রহমান শিবলী, ছিদ্দিক আহমদ বি.কম, পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ অধ্যাপক হারুনুর রশিদ, বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজা, লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন হিরু, চন্দনাইশ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, কর্নফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সোয়ালমান তালুকদার, ফৌজুল কবির, মো: ফারুক, জসিম উদ্দিন, রূপকুমার নন্দী খোকন, নঈমুল হক পারভেজ, নাছির উদ্দিন প্রমুখ।
